The more you Read ,The more you Learn

শনিবার, ১২ জুলাই, ২০২৫

ব্যারিস্টার সৈয়দ ইশতিয়াক আহমেদ: আইন ও বিচারাঙ্গনের এক আলোকবর্তিকা

মো. রায়হানুল ওয়াজেদ চৌধুরী

বাংলাদেশের আইন বিচারাঙ্গনে কতিপয় আইনজ্ঞ তাঁদের জ্ঞানের গভীরতা, নৈতিকতা মানবিক চেতনার জন্য স্মরণীয় হয়ে আছেন। ব্যারিস্টার সৈয়দ ইশতিয়াক আহমেদ তাঁদের মধ্যে শীর্ষস্থানীয় এক উজ্জ্বল নক্ষত্র তিনি একাধারে সংবিধান বিশেষজ্ঞ, মানবাধিকারকর্মী এবং আইন পেশার মর্যাদাকে উন্নত স্থানে পৌঁছে দেওয়া এক দূরদর্শী ব্যক্তিত্ব ছিলেন তিনি কেবল একজন দক্ষ আইনজীবীই ছিলেন না, বরং সংবিধান বিশেষজ্ঞ, নীতিবান বুদ্ধিজীবী এবং দেশের সংকটে অভিভাবকের ভূমিকা পালনকারী ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত ছিলেন তাঁর দীর্ঘ বর্ণাঢ্য কর্মজীবনে তিনি আইন পেশার সম্মান মর্যাদা বৃদ্ধি করেছেন এবং বাংলাদেশের সাংবিধানিক ইতিহাসে গভীর প্রভাব রেখেছেন তিনি বাংলাদেশের অ্যাটর্নি জেনারেল, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা এবং জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন, যা তাঁর বহুমুখী প্রতিভার পরিচায়ক

ব্যারিস্টার সৈয়দ ইশতিয়াক আহমেদ শিক্ষাজীবনে অত্যন্ত মেধাবী ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতক (সম্মান) ডিগ্রি অর্জনের পর তিনি আইন পেশায় যুক্ত হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন উচ্চশিক্ষার জন্য তিনি যুক্তরাজ্যে যান এবং লন্ডনের বিখ্যাত লিংকনস ইন (Lincoln’s Inn) থেকে আইন অধ্যয়ন সম্পন্ন করে ব্যারিস্টার-অ্যাট- এবং লন্ডন স্কুল অফ ইকোনমিকস থেকে অর্থনীতিতে দ্বিতীয় এম.এস.সি. ডিগ্রি লাভ করেন দেশে ফিরে তিনি আইন পেশায় যোগ দেন এবং দ্রুতই নিজের মেধা প্রজ্ঞার স্বাক্ষর রাখতে সক্ষম হন

ছাত্রজীবনে সৈয়দ ইশতিয়াক আহমেদ 'মুকুল ফৌজ' 'ব্রতচারী আন্দোলন'-এর সাথে যুক্ত ছিলেন, যা তাঁর সামাজিক সচেতনতার প্রাথমিক ইঙ্গিত দেয় তাঁর প্রতিবাদী চেতনার প্রথম প্রকাশ ঘটে ১৯৪৬ সালে, যখন তিনি ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল আর্মি- (INA) দুজন অফিসারের কঠোর শাস্তির প্রতিবাদে কলকাতায় বিক্ষোভ প্রতিবাদ র্যালিতে অংশ নিয়ে গ্রেপ্তার অন্তরীণ হন ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের সময় তিনি দুইবার কারারুদ্ধ হন, যা মাতৃভাষার অধিকার রক্ষায় তাঁর অঙ্গীকারের প্রমাণ ১৯৫৩ সালে পাকিস্তান সরকার কর্তৃক ছাত্রসভা বন্ধ করার প্রতিবাদ কমিটি সংগঠনেও তিনি অংশ নেন ১৯৫৪ সালে পূর্ব পাকিস্তানে গভর্নর জেনারেলের শাসন প্রবর্তনের বিরোধিতা করার জন্য তাঁকে তৃতীয়বার কারারুদ্ধ করা হয়, যা তাঁর গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতি দৃঢ়তার পরিচায়ক

 ব্যারিস্টার ইশতিয়াক আহমেদের শিক্ষাজীবন ছাত্রজীবনের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা তাঁর ভবিষ্যৎ আইনি সাংবিধানিক কর্মজীবনের ভিত্তি স্থাপন করেছিল তাঁর ছাত্রজীবনের কারাবরণগুলো মূলত মৌলিক অধিকার, গণতন্ত্র এবং স্বাধিকারের প্রশ্নে ছিল পরবর্তীকালে তাঁর কর্মজীবনে দেখা যায় তিনি গণতন্ত্র, আইনের শাসন এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠার পক্ষে ছিলেন তিনি এরশাদের সামরিক শাসনের বিরুদ্ধেও সোচ্চার ছিলেন এবং এর জন্য ১৯৮৩ ১৯৮৭ সালে পুনরায় কারাবরণ করেন এই ধারাবাহিকতা ইঙ্গিত দেয় যে তাঁর ছাত্রজীবনের সক্রিয়তা নিছক রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা ছিল না, বরং তা ছিল ন্যায়বিচার, গণতন্ত্র মৌলিক অধিকারের প্রতি তাঁর গভীর অঙ্গীকারের বহিঃপ্রকাশ এই অভিজ্ঞতাগুলো তাঁকে একজন সংবিধান বিশেষজ্ঞ জনসেবক হিসেবে গড়ে উঠতে সাহায্য করেছিল, যেখানে তাঁর পেশাগত দক্ষতা ব্যক্তিগত মূল্যবোধের সাথে মিশে গিয়েছিল এটি তাঁর কর্মজীবনের নিরপেক্ষতা নিষ্ঠার একটি শক্তিশালী ভিত্তি তৈরি করেছিল, যা তাঁকে রাজনৈতিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠতে সাহায্য করে

১৯৬০ সাল থেকে আমৃত্যু তিনি আইন পেশায় নিয়োজিত ছিলেন, প্রথমে ইস্ট পাকিস্তান হাইকোর্টে আইনচর্চা শুরু করেন তিনি ব্যারিস্টার .টি.এম. মোস্তফার চেম্বারে সহযোগী ব্যারিস্টার হিসেবে কাজ করেন পরবর্তীতে তিনি 'সৈয়দ ইশতিয়াক আহমেদ অ্যান্ড অ্যাসোসিয়েটস (SIA&A)' নামক নিজস্ব আইন সংস্থা প্রতিষ্ঠা করেন তিনি দেশের সর্বোচ্চ আদালত, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টে (হাইকোর্ট আপিল বিভাগ) একজন শীর্ষস্থানীয় আইনজীবী হিসেবে কাজ করেছেন আইনি পেশায় তাঁর শ্রেষ্ঠত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁকে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের সিনিয়র অ্যাডভোকেট হিসেবে মনোনীত করা হয় অল্প সময়েই তাঁর পাণ্ডিত্য, যুক্তিবাদিতা সততার জন্য বিচারপতি, আইনজীবী সাধারণ litigant— সবার কাছেই শ্রদ্ধাভাজন হয়ে ওঠেন বিশেষ করে সাংবিধানিক আইন (Constitutional Law) এবং প্রশাসনিক আইনে তাঁর দক্ষতা ছিল তুলনাহীন তাঁর কর্মজীবনের একটি বড় অংশ কেটেছে সংবিধানের জটিল বিষয়গুলো ব্যাখ্যা এবং আইনি চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বিচারকদের কাছে তাঁর ব্যাখ্যা যুক্তি ছিল অত্যন্ত গ্রহণীয় তাঁর আইনি বিশ্লেষণগুলো প্রায়শই দেশের রাজনৈতিক প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের উপর প্রভাব ফেলত তিনি ছিলেন অসংখ্য সাংবিধানিক মামলার প্রধান আইনজীবী, এবং বিচারব্যবস্থায় অসাধারণ অবদান রেখে গেছেন

১৯৭২ সালে তিনি অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল এবং ১৯৭৬ সালে বাংলাদেশের তৃতীয় অ্যাটর্নি জেনারেল নিযুক্ত হন ১৯৭৮ সালে তিনি জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন, যা তাঁর আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক দক্ষতার প্রমাণ তিনি সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের দুইবার নির্বাচিত সভাপতি ছিলেন (১৯৭৮-৭৯ এবং ১৯৮৯-৯০), যা আইন পেশার অভ্যন্তরে তাঁর নেতৃত্ব সম্মানের প্রতিফলন বার কাউন্সিলের ফিনান্স কমিটির সদস্য চেয়ারম্যান হিসেবেও তিনি দুই মেয়াদে দায়িত্ব পালন করেন (১৯৭৯-১৯৮২ এবং ১৯৮৯-১৯৯২) ১৯৭৭ সালে তিনি কোম্পানি আইন সংস্কার কমিটির চেয়ারম্যান নিযুক্ত হন এবং ১৯১৩ সালের কোম্পানি আইন সংস্কারে গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশসহ একটি প্রতিবেদন জমা দেন

আইন পেশার বাইরে ব্যারিস্টার ইশতিয়াক আহমেদ দেশের জনজীবনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাব্যস্ত আইনি পেশার পাশাপাশি তিনি সামাজিক বুদ্ধিবৃত্তিক ক্ষেত্রে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন তিনি ঢাকা নর্থ রোটারি ক্লাবের সভাপতি (১৯৭০-১৯৭১) ছিলেন তিনি বাংলা একাডেমি, বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি এবং বাংলাদেশ ইতিহাস পরিষদের আজীবন সদস্য ছিলেন তিনি সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগ (CPD)-এর বোর্ড অফ ট্রাস্টিজের সদস্য ছিলেন, যা নীতি নির্ধারণী আলোচনায় তাঁর আগ্রহের প্রমাণ তিনি বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অফ অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্সের (BILIA) সক্রিয় সদস্য ছিলেন এবং এর বিকল্প চেয়ারম্যান (১৯৮৫-১৯৯১) চেয়ারম্যান (১৯৯২-২০০৩) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্টের (BLAST) প্রতিষ্ঠাতা সদস্য চেয়ারম্যান ছিলেন, যা দরিদ্র অসহায়দের আইনি সহায়তা প্রদানে তাঁর অঙ্গীকারের প্রমাণ

বিচার বিভাগকে নির্বাহী বিভাগ থেকে পৃথক করার ক্ষেত্রে তাঁর মৌলিক অবদান ছিল ২০০১ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকারে আইন উপদেষ্টা হিসেবে তিনি সংবিধান মোতাবেক বিচার বিভাগকে নির্বাহী বিভাগ থেকে পৃথক করার কাজে উপযুক্ত ক্ষেত্র প্রস্তুত করেন মাসদার হোসেন মামলা (বিচার বিভাগ পৃথকীকরণ সংক্রান্ত বহুল আলোচিত মামলা) পরিচালনায় তিনি বিনা পারিশ্রমিকে সম্পূর্ণ স্বপ্রণোদিতভাবে অংশ নিয়েছিলেন ১৯৯৯ সালের ডিসেম্বর আপিল বিভাগে এই মামলায় দেওয়া রায়ের মাধ্যমে অধস্তন আদালতের বিচারকদের সিভিল সার্ভিসের সদস্য হিসেবে গণ্য না করে একটি পৃথক সার্ভিস হিসেবে বিবেচনা করে বিচার বিভাগ পৃথকীকরণের দ্বার উন্মোচিত হয় এই মামলায় তাঁর ভূমিকা বিচার বিভাগের স্বাধীনতার প্রতি তাঁর গভীর অঙ্গীকারের প্রতীক

তাঁর সুদীর্ঘ দশকের বর্ণাঢ্য কর্মজীবনে অসংখ্য মামলায় 'অ্যামিকাস কিউরি' হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং তাঁর যুক্তিগুলো অনেক ঐতিহাসিক নজির স্থাপন করেছে আইন পেশা তাঁকে সিভিল আইন বিশেষজ্ঞ এবং একজন নেতৃস্থানীয় সংবিধান বিশেষজ্ঞ হিসেবে উচ্চ মর্যাদা এনে দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট প্রায়শই তাঁকে 'অ্যামিকাস কিউরি' হিসেবে অভিহিত করত, যা সংবিধানের জটিল দিকগুলো ব্যাখ্যা করার ক্ষেত্রে তাঁর পাণ্ডিত্যপূর্ণ ব্যাখ্যার জন্য ছিল এটি তাঁর আইনি প্রজ্ঞা আদালতের প্রতি তাঁর গভীর শ্রদ্ধার প্রতীক তাঁর আইনি যুক্তি প্রায়শই জটিল সাংবিধানিক বাণিজ্যিক বিরোধ নিষ্পত্তিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করত

তিনি শ্রীলঙ্কা, নেপাল এবং মালদ্বীপের জাতীয় নির্বাচন পর্যবেক্ষণের জন্য আন্তর্জাতিক নির্বাচন পর্যবেক্ষক গ্রুপের সদস্য হিসেবে কাজ করেছেন, যা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রতি তাঁর আন্তর্জাতিক অঙ্গীকারের পরিচায়ক তিনি বিভিন্ন সময়ে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন, যা তাঁর পেশাগত সততা নিরপেক্ষতার প্রতি আস্থা প্রমাণ করে ১৯৭৮ থেকে ১৯৭৯ সাল পর্যন্ত তিনি বাংলাদেশের অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তবে তাঁর সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা ছিল তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা হিসেবে তিনি ১৯৯৬ এবং ২০০১ সালে দুই দফায় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন এই সময়ে তিনি আইন, বিচার সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পাশাপাশি অর্থ মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা হিসেবে তিনি তাঁর নিরপেক্ষতা এবং পেশাদারিত্বের জন্য ব্যাপক প্রশংসিত হন দেশের রাজনৈতিক সংকটের সময়, যখন একটি নিরপেক্ষ সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রয়োজন দেখা দেয়, তখন তাঁর মতো নির্মোহ ব্যক্তিত্বের প্রয়োজন অনুভূত হয় রাজনৈতিক বিভাজনের ঊর্ধ্বে উঠে দেশের সংবিধান এবং আইনের শাসন সমুন্নত রাখতে তাঁর অবদান ছিল অনস্বীকার্য

তাঁর জীবদ্দশায় তিনি সকল রাজনৈতিক মতাদর্শের মানুষের কাছে সমানভাবে শ্রদ্ধেয় ছিলেন তাঁর প্রধান বৈশিষ্ট্য ছিল পেশাদারিত্ব, সততা এবং যেকোনো পরিস্থিতিতে নৈতিক অবস্থান ধরে রাখা তাঁর নিরপেক্ষতা, প্রজ্ঞা এবং দৃঢ় নৈতিক অবস্থান তাঁকে সব রাজনৈতিক বৃত্তের বাইরে আলাদা এক উচ্চতায় প্রতিষ্ঠিত করে তিনি জটিল সাংবিধানিক বিষয়গুলো সহজভাবে ব্যাখ্যা করতে পারতেন এবং তাঁর সিদ্ধান্তগুলো আইন ন্যায়বিচারের নীতিতে প্রতিষ্ঠিত ছিল

২০০৭ সালের ১২ জানুয়ারি তাঁর প্রয়াণ বাংলাদেশের আইন অঙ্গনে এক অপূরণীয় শূন্যতা সৃষ্টি করে তাঁর মৃত্যুতে দেশ হারায় এক অতুলনীয় নীতিবান আইনবিদকে তবে তাঁর কর্ম আদর্শ আজও বেঁচে আছে অসংখ্য তরুণ আইনজীবীর চিন্তা পথচলায় তাঁর জীবন এবং দৃষ্টিভঙ্গি আজও স্মরণ করিয়ে দেয়আইন পেশা যদি মানবিকতা সত্যের পথে পরিচালিত হয়, তবে সেটি সমাজের শ্রেষ্ঠ সেবার রূপ নিতে পারে

তাঁর স্ত্রী সুফিয়া আহমেদ ছিলেন একজন প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ এবং বাংলাদেশের প্রথম নারী জাতীয় অধ্যাপক, যিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষক ছিলেন তিনি ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনেও সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন এবং ২০০২ সালে একুশে পদক ২০১৫ সালে সুফিয়া কামাল পুরস্কারে ভূষিত হন তাঁদের এক পুত্র এক কন্যা সন্তান রয়েছে পুত্র সৈয়দ রেফাত আহমেদ বাংলাদেশের ২৫তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন, যিনি আইন কূটনীতিতে উচ্চ শিক্ষিত এবং আন্তর্জাতিক আইনের একজন বিশেষজ্ঞ কন্যা তাসনীম রাইনা ফাতেহ (রাইনা আহমেদ) একজন চিকিৎসক তাঁর শ্বশুর ছিলেন বিচারপতি মুহাম্মদ ইব্রাহিম, যিনি একজন নোট করা আইনজ্ঞ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এবং পাকিস্তানের আইনমন্ত্রী ছিলেন, যা তাঁদের পরিবারের উচ্চ বুদ্ধিবৃত্তিক ঐতিহ্যকে তুলে ধরে

ব্যারিস্টার সৈয়দ ইশতিয়াক আহমেদ তাঁর জীবন কর্মের মধ্য দিয়ে প্রমাণ করে গেছেন যে, একজন আইনজীবী কেবল পেশাজীবী নন, বরং তিনি সমাজের বিবেক এবং সংবিধানের রক্ষক হতে পারেন তিনি ছিলেন একজন চিন্তাশীল দার্শনিক তাঁর আইনি যুক্তি, বক্তৃতা লেখনিতে স্পষ্ট প্রতিফলিত হতো নৈতিকতা মানবিক মূল্যবোধ আইন ন্যায়কে তিনি বিবেচনা করতেন সমাজ পরিবর্তনের হাতিয়ার হিসেবে তিনি বলতেন, “বিচার কেবল আদালতের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, তা মানুষের হৃদয়েও প্রতিফলিত হতে হবে।

লেখক:

মো. রায়হানুল ওয়াজেদ চৌধুরী,

আইনজীবী,

বাংলাদেশ সুপ্রীম কোট, ও

সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর, চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ আদালত

(সমাজ-রাজনীতি বিচারব্যবস্থা নিয়ে নিয়মিত লেখালেখি করেন )

লেবেল

ফৌজদারী দেওয়ানী টিপস দন্ডবিধি জুডিশিয়ারী অ্যাডভোকেটশীপ সাহিত্য - সংস্কৃতি আইনজীবী ইতিহাস ফৌজদারি কার্যবিধি রাজনীতি সম্পত্তি হস্তান্তর আইন অধিকার সংবিধান সফল জীবনী সুনিদিষ্ট প্রতিকার আইন Islam দেওয়ানী কার্যবিধি ধর্ম Civil Tips religion বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি চুক্তি আইন নারী ও শিশু নির্যাতন সাইবার ক্রাইম CONTRACT LAW আইন পেশায় টিকে থাকার লড়াই কোম্পানী আইন জিয়াউর রহমান তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইন দলিল পারিবারিক ফৌজদারি বিএনপি মানবাধিকার যুগান্তকারী রায় যৌতুক নিরোধ আইন ২০১৮ সাক্ষ্য আইন হাইকোর্টে মামলা Advocate Dress Income tax Lawyer Dress Stop vat on Education অ্যাডমিরাল মাহবুব আবহাওয়া আল্লামা ইকবাল ইয়াকুব মেমন এনআই অ্যাক্ট খাজা সলিমুল্লাহ গ্রেপ্তার চুরি চেক ডিজঅনার জাতীয় পতাকা বিধিমালা জাতীয় মানবাধিকার কমিশন জামিন জেনারেল জিয়াউর রহমান নবাব পশু জবাই আইন পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট ফরেনার্স অ্যাক্ট বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ বাংলাদেশ বার কাউন্সিল বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতিগণ বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা বিচারপতি সৈয়দ রিফাত আহমেদ বিশেষ ক্ষমতা আইন ব্যারিস্টার ইশতিয়াক আহমেদ ব্যারিস্টার রফিক-উল হক মাংসের মান নিয়ন্ত্রণ আইন মোবাইল কোর্ট রায়তী স্বত্বীয় খাস দখলী" বাক্যটির অর্থ কি রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান শহীদ প্রেসিডেন্ট হাইকোর্ট হিন্দু উত্তরাধিকার আইন