সম্প্রতি
বেশ কয়েকটি হত্যার ঘটনায় রাজধানী ঢাকাসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলোতে
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অতিরিক্ত চেকপোস্ট বসিয়ে পথচারী, যানবাহন ও
যাত্রীদের তল্লাশি করছে। সন্দেহজনক প্রতিষ্ঠান এবং বাড়িতেও চলছে এই অভিযান।
- See more at:
http://www.jjdin.com/?view=details&archiev=yes&arch_date=15-10-2015&feature=yes&type=single&pub_no=1338&cat_id=3&menu_id=76&news_type_id=1&index=0#sthash.xjguFQZX.dpuf
সম্প্রতি
বেশ কয়েকটি হত্যার ঘটনায় রাজধানী ঢাকাসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলোতে
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অতিরিক্ত চেকপোস্ট বসিয়ে পথচারী, যানবাহন ও
যাত্রীদের তল্লাশি করছে। সন্দেহজনক প্রতিষ্ঠান এবং বাড়িতেও চলছে এই অভিযান।
- See more at:
http://www.jjdin.com/?view=details&archiev=yes&arch_date=15-10-2015&feature=yes&type=single&pub_no=1338&cat_id=3&menu_id=76&news_type_id=1&index=0#sthash.xjguFQZX.dpuf
সম্প্রতি
বেশ কয়েকটি হত্যার ঘটনায় রাজধানী ঢাকাসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলোতে
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অতিরিক্ত চেকপোস্ট বসিয়ে পথচারী, যানবাহন ও
যাত্রীদের তল্লাশি করছে। সন্দেহজনক প্রতিষ্ঠান এবং বাড়িতেও চলছে এই অভিযান।
- See more at:
http://www.jjdin.com/?view=details&archiev=yes&arch_date=15-10-2015&feature=yes&type=single&pub_no=1338&cat_id=3&menu_id=76&news_type_id=1&index=0#sthash.xjguFQZX.dpuf
সাম্প্রতিক সময়ে সংঘটিত জাপান এবং ইতালীয় দুই নাগরিক খুনসহ দেশের বেশ কয়েকটি হত্যার ঘটনায় পুরো দেশে জননিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। তারই ধারাবাহিতায় রাজধানী ঢাকা সহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় আইনশৃঙ্খলা বাহীনির চলছে অতিরিক্ত চেকপোস্ট বসিয়ে পথচারী, যানবাহন ও যাত্রীদের , সন্দেহজনক প্রতিষ্ঠান ও বাড়ীতে তল্লাশি অভিযান। দৈনন্দিন জীবনে প্রায় সময়ে দেখা যায় যে চলাফেরায় দেহ এবং সঙ্গে থাকা জিনিসপত্র, ব্যাগ,মোবাইল কিংবা রাস্তায়, অফিসে, বাড়ীতে পুলিশের এই তল্লাশি বা আটক অভিযান। মূলত দেশের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও নাশকতা ঠেকাতে তথা সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থা বা পুলিশ সন্দেহজনক মালামাল বা ব্যাক্তি বা প্রতিষ্ঠানে তল্লাশি বা আটক করে থাকে। আমাদের দেশের বিদ্যমান আইন মতে, পুলিশ বা আইন শৃঙ্খলা বাহিনী ইচ্ছে করলেই যে কোন ব্যাক্তিকে যে কোন সময়ে তল্লাশি বা গ্রেফতার করতে পারেন। তার জন্য কিছু বিধিনিষেধও রয়েছে। সাধারণ মানুষ বিষয়টি সম্পর্কে সঠিকভাবে জানে না। যার ফলে এই কাজে অনেক সময়ে পুলিশি হয়রানি ও জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়।এসময়ে নাগরিকদের উচিত আতঙ্কিত না হয়ে একটু সতর্কতা অবল্বন করা। তিঁনি যদি কোনো অপরাধ না করে থাকেন তাহলে ভয় না করে সেটি আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের বুঝিয়ে বলতে হবে। তল্লাশিতে তাদের সহযোগীতা করতে হবে। তাদের যুক্তিসংগত প্রশ্নের সোজাসুজি উত্তর দেওয়া ভাল। এমন কোন আচার-আচনণ করা বা কথা বলা যাবে না যাতে পুলিশের সন্দেহ সৃষ্টি হয়। পুলিশি তল্লাশি বা আটক তথা অহেতুক হয়রানি থেকে মুক্ত থাকার জন্য নাগরিকদের কিছু পূর্ব প্রস্তুতিও রাখতে হবে। যেমন নিজের পেশাগত পরিচয়পত্র ও জাতীয় পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখা। এ ছাড়া চেনাজানা দায়িত্বশীল ব্যক্তির নাম, ফোন নম্বর ও ঠিকানা সঙ্গে রাখা। বেআইনি কোন কর্মকান্ডে জড়িত না হওয়া এবং বেআইনি কোন বস্তু বা মালামাল না রাখা। দেশের বিদ্যমান আইন-কানুন মেনে চলা।
যাহোক এবার আসি মূল আলোনায়; ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ১০১, ১০২ ও ১০৩- এ
পুলিশের তল্লাশির দায়িত্ব এবং নাগরিকের অধিকার সম্পর্কে বলা হয়েছে। এর বাইরেও
বেশকিছু আইনি বিধান রয়েছে। যা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে তল্লাশি ও আটক সম্পর্কে বলা হয়েছে।
সাধারণত যদি কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা হয়, তখন আসামী গ্রেফতারের উদ্দেশ্যে পুলিশ তল্লাশি করতে পারে। কোর্ট থেকে ম্যাজিস্ট্রেট যদি কারও
বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট জারি করে,
তবে পুলিশ উক্ত
ব্যক্তি বা বিষয়বস্তুর সন্ধানে তল্লাশি চালাতে পারে। ওয়ারেন্ট হলে তা লিখিত ও
ম্যাজিষ্ট্রেট কর্তৃক স্বাক্ষরিত হবে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে যদি পুলিশ জানতে পারে
যে, কোনো সুনির্দিষ্ট কোনো জায়গায় বা প্রতিষ্টান,বাড়িতে বেআইনি কর্মকান্ড হচ্ছে বা
হওয়ার সম্ভাবনা আছে অথবা আগ্নেয়াস্ত্র বা বিষ্ফোরক পদার্থ মওজুদ আছে তখন পুলিশ
তল্লাশির জন্য সেই জায়গায় যেতে পারে।সন্দেজনক বস্তু এবং ব্যাক্তিকে আটক করতে পারে।
এছাড়া কোনো মামলার পলাতক আসামীকে খুঁজে বের করার জন্য পুলিশ তল্লাশি করতে পারে। যদি পুলিশ কাউকে বা কোনো
স্থান বা বাড়িতে তল্লাশি করতে আসে তাহলে
তল্লাশির পূর্বে পুলিশ ওই এলাকার গণ্যমান্য দুই বা ততোধিক ব্যক্তিকে ডাকবেন।
নিজেদের পরিচয় দিবেন অর্থাৎ কোন থানা বা সংস্থা থেকে এসেছেন, কেন এসেছে, কোন পদ মর্যাদা
অফিসার বা সদস্য প্রভৃতি। তাদের সামনে তল্লাশি
বা আটক অভিযান পরিচালনা করবেন এবং উক্ত তল্লাশিতে সাক্ষী হতে বলবেন। এক্ষেত্রে
প্রয়োজনে তাদের একজনের প্রতি লিখিত আদেশ দিতে পারবেন। উপধারা (৫) এ বলা হয়েছে, কারো বিরুদ্ধে ‘তল্লাশি পরোয়ানা’ থাকলে স্থানীয় ব্যক্তি বা
বাসিন্দাকে উপস্থিত থাকার জন্য লিখিত আদেশ দেয়া হতে পারে। যদি তল্লাশিকালে স্থানীয়
এলাকার সম্মানিত সাক্ষী না পাওয়া গেলে ভিন্ন স্থান থেকে সাক্ষী নেয়া যেতে
পারে।ফৌজদারি কার্যবিধি ১০২ ধারা অনুযায়ী,
কোনো ঘর বা বাড়ির
মালিক পুলিশকে সার্চ করার অনুমতি দিতে বাধ্য,
এ সময় তিনি পুলিশকে
সকল প্রকার যুক্তিসঙ্গত সুযোগ সুবিধা দেবেন। যদি তল্লাশিযোগ্য কোনো স্থান বন্ধ
থাকে বা মুক্তভাবে প্রবেশ করা না যায় তাহলে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা বা পুলিশ ভেতরের
বা বাইরের দরজা- জানালা ভেঙে প্রবেশ করতে পারবেন। পুলিশ তল্লাশির সময় যেখানেই যাবে
সেখানে সাক্ষীকে উপস্থিত রাখতে হবে।এছাড়াও তল্লাশিকৃত স্থানের দখলকারী ব্যক্তি
অথবা তার পক্ষে অন্য কোনো ব্যক্তিকে তল্লাশির সময়উপস্থিত থাকার অনুমতি দিবে পুলিশ।
যেখানে পুলিশ তল্লাশি করবেন উক্ত স্থানে বা আশপাশে তল্লাশি করতে পারবেন।তল্লাশির
সময় জব্দকৃত সব জিনিসের কোনটি কোন স্থানে তথা কিভাবে পাওয়া গেছে তা উল্লেখ করে
একটি তালিকা তৈরি করবেন। তল্লাশি শেষে আটক
জিনিসগুলো সাক্ষীকে দেখাবেন। তালিকাটিতে সাক্ষীদের স্বাক্ষর নেবেন।স্থানীয়
সম্মানিত সাক্ষী চাইলে এই তালিকার একটি কপি তাকেও সরবরাহ করা যাবে। উক্ত স্থান বা
প্রতিষ্ঠানেরর দাখলকারী ব্যক্তি বা তার পক্ষে প্রতিনিধি অনুরোধ করলে সাক্ষীদের
স্বাক্ষরযুক্ত আটককৃত মালামালের তালিকার একটি নকল দিতে হবে। উল্লেখ যে, তল্লাশিতে সাক্ষীদেরকে যদি
আদালত বিশেষভাবে সমন দিয়ে তলব না করে তাহলে উক্ত সাক্ষীদের আদালতে হাজির হতে
নির্দেশ দেওয়া যাবে না। যদি কোনো ব্যক্তির দেহে বেআইনি
বস্তু লুকিয়ে আছে বলে সন্দেহ হলে পুলিশ তার দেহও
তল্লাশি করতে পারবে। ফৌজদারি কার্যবিধির ১০৩(৪) ধারায় বলা হয়েছে, কার্যবিধি ১০২(৩) ধারা
অনুসারে কোন ব্যক্তির দেহ তল্লাশি করা যাবে। বলা
হয়েছে, ‘যে বস্তু সম্পর্কে তল্লাশি
হওয়া উচিত, উক্ত স্থানে বা স্থানের নিকট
কোন ব্যক্তি উক্ত বস্তু তাহার দেহে লুকাইয়া রাখিতেছে বলিয়া যদি যুক্তিসঙ্গতভাবে
সন্দেহ করা যায়, তাহা হইলে উক্ত ব্যক্তির দেহ
তল্লাশি করা যাইতে পারে।’অর্থাৎ যে জিনিসটি পুলিশ
তল্লাশি করছে তা যদি ওই ব্যক্তির
শরীরের ভেতর লুকিয়ে রেখেছে বলে
সন্দেহ হয় তাহলে ওই ব্যক্তিকে পুলিশ
সন্দেহ করতে পারবে।সংশ্লিষ্ট ধারায়
আরো বলা হয়েছে, সন্দিগ্ধ ব্যক্তি যদি মহিলা হয় তাহলে ৫২ ধারার নির্দেশাবলী
অনুসরণ করতে হবে। ৫২ ধারা অনুযায়ী স্ত্রী
লোককে অবশ্যই মহিলা পুলিশ দিয়ে তার দেহ তল্লাশি করতে হবে। সেখানে মহিলা পুলিশ না
থাকলে স্থানীয় কোন মহিলা দিয়ে দেহ তল্লাশি করা যাবে। এবং তা অবশ্যই কঠোর শালীনতার
মধ্য দিয়ে করতে হবে। সন্দিগ্ধ কোনো স্থান বা বাড়ির তল্লাশির জন্য যেমন
দুই বা ততোধিক গণ্যমান্য ব্যক্তি সাক্ষী
হিসেবে থাকতে হয় ঠিক তেমনি ব্যক্তির তল্লাশির ক্ষেত্রেও তা অবশ্যই পালনযোগ্য। ব্যক্তির
কাছ থেকে আটককৃত জিনিসের তালিকা করবে পুলিশ এবং ওই ব্যক্তি চাইলেই একটি নকল তাকে দিতে হবে। উল্লেখ্য, ১০৩ ধারায় আরো
উল্লেখ করা হয়েছে যে, লিখিত আদেশ দ্বারা আহবান জানানো সত্ত্বেও যদি কেউ যুক্তিসঙ্গত কারণ ছাড়া
তল্লাশিতে উপস্থিত না থাকে ও সাক্ষী হতে অস্বীকার বা অবহেলা করে তবে সে দণ্ডবিধির ১৮৭ ধারায় বর্ণিত অপরাধ করেছেন বলে ধরা হবে।
দণ্ডবিধির ১৮৭ ধারা মতে, ‘কোনো ব্যক্তি
সরকারি কর্মকর্তাকে সরকারি কোনো কাজে সহযোগিতায় ইচ্ছাকৃতভাবে অস্বীকৃতি জানালে বা
বাধা দিলে তাকে একমাস পর্যন্ত যে কোনো মেয়াদের বিনাশ্রম কারাদণ্ড অথবা দুইশত টাকা
পর্যন্ত যে কোনো পরিমাণ জরিমানা দণ্ডে বা উভয়দণ্ডে দণ্ডিত করা হবে।’ নিয়ম অনুযায়ী কাউকে তল্লাশি বা আটক করার পর ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী
সংশ্লিষ্ট পুলিশকে নিজের থানায় রিপোর্ট করতে হয়। উক্ত ব্যক্তির কাছে যদি অবৈধ কোনো
কিছু পাওয়া না যায় তাহলে,
“অবৈধ কিছু পাওয়া
যায়নি” এই মর্মে তল্লাশীকারী
পুলিশকে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে লিখিত একটি অনুলিপি দিতে হয় এবং এ ক্ষেত্রে রিপোর্টে
দুজন দায়িত্বশীল ব্যক্তিকে সাক্ষী থাকতে হয়।
সুতরাং এ বিষয়ে নাগরিকদের লক্ষ্য রাখতে হবে যে, পুলিশ বা আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকরী অফিসার অথবা কোনো ম্যাজিস্ট্রেট কর্মকর্তা তল্লাশির
সময়ে স্থানীয় এক বা দু’জন সম্মানিত ব্যক্তি সে
স্থানে উপস্থিত আছে কি-না এবং তাদের দেখিয়ে সব মালামাল তল্লাশি করা হচ্ছে কি-না। তল্লাশির সময়ে কাউকে সন্দেহ হলে বা অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য আটক কিংবা
গ্রেপ্তার করতে পারে। যদি পুলিশ বা আইন শৃঙ্খলা
বাহিনীর সদস্য কোন নাগরিক কে আটক কিংবা গ্রেপ্তার করে তা অবশ্যই হতে হবে
সুনির্দিষ্ট, বিশ্বাসযোগ্য ও যুক্তিসঙ্গত
তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে। উক্ত ব্যাক্তির যথাযত মর্যাদা ও সম্মান বজায় রেখেই করতে
হয়।উক্ত ব্যাক্তি যদি শিশু হয় তাহলে তার অভিবাবক বা বিশ্বাস ও আস্তা রাখে এমন
বয়স্ক লোকের সামনে করতে হবে। সাধারণত পুলিশ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছাড়া কাউকে
গ্রেপ্তার করতে পারেন না। কিন্তু অনেক সময় বিধিসাপেক্ষ বিনা পরোয়ানা ছাড়াই
গ্রেপ্তার করতে পারে । ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারার ১ নং উপধারা মতে, একজন পুলিশ অফিসার
ম্যাজিস্ট্রেটের ওয়ারেন্ট ছাড়াই কিছু কিছু ক্ষেত্রে একজন ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করতে পারেন। উল্লেখযোগ্য হল যেমন- যার কাছে ঘর ভাঙার যন্ত্র বা বস্তু আছে, সেই ব্যক্তি যাকে 'ঘোষিত অপরাধী' বলা হয়। এদের ধরার জন্য
সংবাদপত্র বা গেজেটে ঘোষণা দেয়া হয়,
যে ব্যক্তির কাছে
চোরাইমাল আছে বলে সন্দেহ করা হয়,
পুলিশের আইনানুগ
কাজে যারা বাধা দেয় বা পুলিশের হেফাজত থেকে যারা পালিয়ে যেতে চেষ্টা করে, যারা প্রতিরক্ষা বাহিনী থেকে পলাতক, বাংলাদেশের বাইরে যারা অপরাধ
করে, তাদের যদি বাংলাদেশে পাওয়া যায়, গুরুতর অপরাধে দ-ন্ডিত ব্যক্তিরা খালাস পাওয়ার পরও তাদের যেসব নিয়ম মেনে চলতে
হয়, সেগুলো যারা ভঙ্গ করে, যেসব আসামিকে বিনা ওয়ারেন্টে গ্রেপ্তারের জন্য অন্য থানা থেকে অনুরোধ করা হয় প্রভৃতি। যেকারণেই
আটক কিংবা গ্রেপ্তার করা হউক না কেন। উক্ত নাগরিকের কাছে পুলিশ নিজের পরিচয় দিবেন । আসামীকে আটক বা
গ্রেফতারের কারণ জানাবেন। যদি আসামী গ্রেপ্তার এড়াতে চেস্টা করে তাহলে আসামীর
পলায়ন প্রতিরোধ করা জন্য যতটুকু বল প্রয়োগ করা প্রয়োজন ঠিক ততটুকু বল প্রয়োগ
করতে হবে। গ্রেফতারকৃত আসামী যদি মহিলা,
শিশু, বৃদ্ধ বা অসুস্থ হয় তাহলে
তাকে হাতকড়া পড়ানো যাবে না। মনে রাখতে হবে,
থানায় বা পুলিশি
হেফাজতে নাগরিক কে অত্যাচার করে পুলিশ
কর্তৃপক্ষ কোনো জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারে না। অর্থাৎ কোন প্রকার শারিরীক-,মানসিক নির্যাতন বা নিষ্ঠুর ব্যবহার করা যাবে না। আর
তাদের কাছে প্রদত্ত কোনো স্বীকারোক্তি সাক্ষ্য
প্রদানের ২৫ ধারা অনুসারে আদালতের কাছে গ্রহণযোগ্যও নয়। আর যদি জিজ্ঞাসাবাদের সময় নির্যাতন করা হয়, তাহলে তা সম্পূর্ণ অবৈধ ও বেআইনি। কখনই কোনো সাদা কাগজে দস্তখত করা যাবে না। অভিযোগ
ছাড়া কাউকে যুক্তিসংগত সময়ের বাইরে তথা অনির্দিষ্টকালের জন্য থানায় আটক রাখা যায়
না। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তাঁকে ছেড়ে দিতে হবে।অথবা কোনো আইনের আওতায় তাঁকে গ্রেপ্তার
দেখিয়ে ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে হাজির করতে হবে। তখন ম্যাজিস্ট্রেট প্রয়োজনে
আটকাদেশ দিতে পারেন।
লেখক
(চতুর্থ বর্ষ)আইন বিভাগ,আইআইইউসি
ইমেইল- ll.braihan@gmail.com
দেশের
অভ্যন্তরে সন্ত্রাসী কর্মকা- ও নাশকতা ঠেকাতে তথা সার্বিক আইনশৃঙ্খলা
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থা বা পুলিশ সন্দেহজনক
মালামাল, ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের তল্লাশি কিংবা আটক করে থাকে। তল্লাশিকৃত
ব্যক্তিটি যদি কোনো অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ত না হয়ে থাকেন তাহলে ভয় না পেয়ে
বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের বুঝিয়ে বলতে হবে। তল্লাশিতে তাদের
সহযোগিতা করতে হবে। পুলিশের যুক্তিসঙ্গত প্রশ্নের সোজাসুজি উত্তর দেয়াই
ভালো। এমন কোনো আচার-আচরণ করা বা কথা বলা যাবে না যাতে পুলিশের সন্দেহ
সৃষ্টি হয়। পুলিশি তল্লাশি বা আটক তথা অহেতুক হয়রানি থেকে মুক্ত থাকার জন্য
নাগরিকদের কিছু পূর্ব প্রস্তুতিও রাখতে হবে। যেমন নিজের পেশাগত পরিচয়পত্র ও
জাতীয় পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখা। এছাড়া চেনাজানা দায়িত্বশীল ব্যক্তির নাম, ফোন
নাম্বার ও ঠিকানা সঙ্গে রাখা যেতে পারে। বেআইনি কোনো কর্মকা-ে জড়িত না
হওয়া এবং বেআইনি কোনো বস্তু বা মালামাল না রাখা। দেশের বিদ্যমান আইন-কানুন
মেনে চলা।
ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ১০১, ১০২ ও ১০৩-এ পুলিশের তল্লাশির দায়িত্ব এবং নাগরিকের অধিকার সম্পর্কে বলা হয়েছে। সাধারণত যদি কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা হয়, তখন আসামি গ্রেপ্তারের উদ্দেশ্যে পুলিশ তল্লাশি করতে পারে। কোর্ট থেকে ম্যাজিস্ট্রেট যদি কারো বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট জারি করে, তবে পুলিশ ওই ব্যক্তি বা বিষয়বস্তুর সন্ধানে তল্লাশি চালাতে পারে। ওয়ারেন্ট হলে তা লিখিত ও ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক স্বাক্ষরিত হবে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে যদি পুলিশ জানতে পারে যে সুনির্দিষ্ট কোনো জায়গায়, প্রতিষ্ঠানে বা কোনো বাড়িতে বেআইনি কর্মকা- হচ্ছে বা হওয়ার সম্ভাবনা আছে অথবা আগ্নেয়াস্ত্র বা বিস্ফোরক পদার্থ মজুদ আছে, তখন পুলিশ তল্লাশির জন্য সেই জায়গায় যেতে পারে। সন্দেহজনক বস্তু এবং ব্যক্তিকে আটক করতে পারে।
উল্লেখ্য, তল্লাশির সময় উপস্থিত সাক্ষীদের যদি আদালত বিশেষভাবে সমন দিয়ে তলব না করে তাহলে ওই সাক্ষীদের আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেয়া যাবে না। যদি কোনো ব্যক্তির দেহে বেআইনি বস্তু লুকিয়ে আছে বলে সন্দেহ হয়, তাহলে পুলিশ তার দেহও তল্লাশি করতে পারবে। ফৌজদারি কার্যবিধির ১০৩(৪) ধারায় বলা হয়েছে, কার্যবিধির ১০২(৩) ধারা অনুসারে কোনো ব্যক্তির দেহ তল্লাশি করা যাবে। বলা হয়েছে, 'যে বস্তু সম্পর্কে তল্লাশি হওয়া উচিত, ওই স্থানে বা স্থানের কাছে কোনো ব্যক্তি ওই বস্তু তার দেহে লুকিয়ে রেখেছে বলে যদি যুক্তিসঙ্গতভাবে সন্দেহ করা যায়, তাহলে ওই ব্যক্তির দেহ তল্লাশি করা যেতে পারে।' সংশ্লিষ্ট ধারায় আরো বলা হয়েছে, সন্দিগ্ধ ব্যক্তি যদি নারী হন, তাহলে ৫২ ধারা অনুযায়ী নারীকে অবশ্যই নারী পুলিশ দিয়ে তল্লাশি করতে হবে। সেখানে নারী পুলিশ না থাকলে স্থানীয় কোনো নারীকে দিয়ে দেহ তল্লাশি করা যাবে এবং তা অবশ্যই কঠোর শালীনতার মধ্য দিয়ে করতে হবে। সন্দিগ্ধ কোনো স্থান বা বাড়ির তল্লাশির জন্য যেমন দুই বা ততোধিক গণ্যমান্য ব্যক্তিকে সাক্ষী হিসেবে থাকতে হয় ঠিক তেমনি ব্যক্তির তল্লাশির ক্ষেত্রেও তা অবশ্যই পালনযোগ্য।
ব্যক্তির কাছ থেকে আটককৃত জিনিসের তালিকা করবে পুলিশ এবং ওই ব্যক্তি চাইলেই একটি নকল তাকে দিতে হবে। উল্লেখ্য, ১০৩ ধারায় আরো উল্লেখ করা হয়েছে যে, লিখিত আদেশ দ্বারা আহ্বান জানানো সত্ত্বেও যদি কেউ যুক্তিসঙ্গত কারণ ছাড়া তল্লাশিতে উপস্থিত না থাকে ও সাক্ষী হতে অস্বীকার বা অবহেলা করে তবে তিনি দ-বিধির ১৮৭ ধারায় বর্ণিত অপরাধ করেছেন বলে ধরা হবে। দ-বিধির ১৮৭ ধারা মতে, 'কোনো ব্যক্তি সরকারি কর্মকর্তাকে সরকারি কোনো কাজে সহযোগিতায় ইচ্ছাকৃতভাবে অস্বীকৃতি জানালে বা বাধা দিলে তাকে একমাস পর্যন্ত যে কোনো মেয়াদের বিনাশ্রম কারাদ- অথবা দুইশত টাকা পর্যন্ত যে কোনো পরিমাণ জরিমানা দ-ে বা উভয়দ-ে দ-িত করা হবে।' নিয়ম অনুযায়ী কাউকে তল্লাশি বা আটক করার পর ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট পুলিশকে নিজের থানায় রিপোর্ট করতে হয়। ওই ব্যক্তির কাছে যদি অবৈধ কোনো কিছু পাওয়া না যায়, তাহলে 'অবৈধ কিছু পাওয়া যায়নি' এই মর্মে তল্লাশিকারী পুলিশ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে লিখিত একটি অনুলিপি দেবেন এবং এ ক্ষেত্রে রিপোর্টে দুজন দায়িত্বশীল ব্যক্তিকে সাক্ষী থাকতে হয়।
সুতরাং নাগরিকদের লক্ষ্য রাখতে হবে যে পুলিশ বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী কর্মকর্তা অথবা কোনো ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক তল্লাশির সময়ে স্থানীয় এক বা দুজন সম্মানিত ব্যক্তি সেই স্থানে উপস্থিত আছেন কিনা এবং তাদের দেখিয়ে সব মালামাল তল্লাশি করা হচ্ছে কিনা। তল্লাশির সময়ে কাউকে সন্দেহ হলে বা অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য আটক কিংবা গ্রেপ্তার করতে পারে পুলিশ। যদি পুলিশ বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য কোনো নাগরিককে আটক কিংবা গ্রেপ্তার করে তা অবশ্যই হতে হবে সুনির্দিষ্ট, বিশ্বাসযোগ্য ও যুক্তিসঙ্গত তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে। ওই ব্যক্তির যথাযথ মর্যাদা ও সম্মান বজায় রেখেই আটক করতে হবে। উদ্দিষ্ট ব্যক্তি যদি শিশু হয় তাহলে তার অভিভাবক বা সে যার ওপর বিশ্বাস ও আস্থা রাখে এমন বয়স্ক লোকের সামনে আটক করতে হবে। সাধারণত পুলিশ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছাড়া কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারে না। কিন্তু অনেক সময় বিধিসাপেক্ষে পরোয়ানা ছাড়াও অনেক সময় গ্রেপ্তার করতে পারে। ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারার ১ উপধারা মতে, একজন পুলিশ অফিসার ম্যাজিস্ট্রেটের ওয়ারেন্ট ছাড়াই কিছু কিছু ক্ষেত্রে একজন ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করতে পারেন। জন্য সংবাদপত্র বা গেজেটে ঘোষণা দেয়া হয়, যে ব্যক্তির কাছে চোরাইমাল আছে বলে সন্দেহ করা হয়, যে কারণেই আটক কিংবা গ্রেপ্তার করা হোক না কেন, ওই নাগরিকের কাছে পুলিশ নিজের পরিচয় প্রদান করবে। আসামিকে আটক বা গ্রেপ্তারের কারণ জানাতে হবে। যদি আসামি গ্রেপ্তার এড়াতে চেষ্টা করে তাহলে আসামির পলায়ন প্রতিরোধ করার জন্য যতটুকু বল প্রয়োগ করা প্রয়োজন ঠিক ততটুকু বল প্রয়োগ করতে হবে।
লেখক : মানবাধিকার কর্মী ও চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী, আইন বিভাগ, আইআইইউসি - See more at: http://www.jjdin.com/?view=details&archiev=yes&arch_date=15-10-2015&feature=yes&type=single&pub_no=1338&cat_id=3&menu_id=76&news_type_id=1&index=0#sthash.xjguFQZX.dpuf
ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ১০১, ১০২ ও ১০৩-এ পুলিশের তল্লাশির দায়িত্ব এবং নাগরিকের অধিকার সম্পর্কে বলা হয়েছে। সাধারণত যদি কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা হয়, তখন আসামি গ্রেপ্তারের উদ্দেশ্যে পুলিশ তল্লাশি করতে পারে। কোর্ট থেকে ম্যাজিস্ট্রেট যদি কারো বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট জারি করে, তবে পুলিশ ওই ব্যক্তি বা বিষয়বস্তুর সন্ধানে তল্লাশি চালাতে পারে। ওয়ারেন্ট হলে তা লিখিত ও ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক স্বাক্ষরিত হবে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে যদি পুলিশ জানতে পারে যে সুনির্দিষ্ট কোনো জায়গায়, প্রতিষ্ঠানে বা কোনো বাড়িতে বেআইনি কর্মকা- হচ্ছে বা হওয়ার সম্ভাবনা আছে অথবা আগ্নেয়াস্ত্র বা বিস্ফোরক পদার্থ মজুদ আছে, তখন পুলিশ তল্লাশির জন্য সেই জায়গায় যেতে পারে। সন্দেহজনক বস্তু এবং ব্যক্তিকে আটক করতে পারে।
<a
href='http://bdads.bd-ads.com/ads/www/delivery/ck.php?n=a0d63775&amp;cb=INSERT_RANDOM_NUMBER_HERE'
target='_blank'><img
src='http://bdads.bd-ads.com/ads/www/delivery/avw.php?zoneid=79&amp;cb=INSERT_RANDOM_NUMBER_HERE&amp;n=a0d63775'
border='0' alt='' /></a>
এছাড়া কোনো মামলার পলাতক আসামিকে খুঁজে বের করার জন্য পুলিশ তল্লাশি করতে
পারে। যদি পুলিশ কাউকে বা কোনো স্থান বা বাড়িতে তল্লাশি করতে আসে তাহলে
তল্লাশির আগে পুলিশ সদস্যরা ওই এলাকার গণ্যমান্য দুই বা ততোধিক ব্যক্তিকে
ডাকবেন। নিজেদের পরিচয় দেবেন অর্থাৎ কোন থানা বা সংস্থা থেকে এসেছেন, কেন
এসেছে, কোন পদমর্যাদার অফিসার বা সদস্য প্রভৃতি সেসব জানাবেন। এরপর তাদের
সামনে তল্লাশি বা আটকাভিযান পরিচালনা করবেন এবং ওই তল্লাশিতে সাক্ষী হতে
বলবেন। এ ক্ষেত্রে প্রয়োজনে তাদের একজনের প্রতি লিখিত আদেশ দিতে পারবেন।
ফৌজদারি কার্যবিধি ১০২ ধারা অনুযায়ী কোনো ঘর বা বাড়ির মালিক পুলিশকে সার্চ
করার অনুমতি দিতে বাধ্য, এ সময় তিনি পুলিশকে সকল প্রকার যুক্তিসঙ্গত
সুযোগ-সুবিধা দেবেন। যদি তল্লাশিযোগ্য কোনো স্থান বন্ধ থাকে বা মুক্তভাবে
প্রবেশ করা না যায় তাহলে আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা বা পুলিশ ভেতরের বা বাইরের
দরজা-জানালা ভেঙে প্রবেশ করতে পারবেন। পুলিশ তল্লাশির সময় যেখানেই যাবে
সেখানে সাক্ষীকে উপস্থিত রাখতে হবে। এছাড়াও তল্লাশিকৃত স্থানের মালিক বা
দখলদার ব্যক্তি অথবা তার পক্ষে অন্য কোনো ব্যক্তিকে তল্লাশির সময় উপস্থিত
থাকার অনুমতি দেবে পুলিশ। তল্লাশির সময় জব্দকৃত সব জিনিসের কোনটি কোন
স্থানে তথা কিভাবে পাওয়া গেছে তা উল্লেখ করে একটি তালিকা তৈরি করতে হবে।
তল্লাশি শেষে আটক জিনিসপত্র সাক্ষীকে দেখাতে হবে। তালিকাটিতে সাক্ষীদের
স্বাক্ষর থাকতে হবে। স্থানীয় সম্মানিত সাক্ষীর কেউ চাইলে এই তালিকার একটি
কপি তাকেও সরবরাহ করা যাবে। ওই স্থান বা প্রতিষ্ঠানের দখলদার ব্যক্তি বা
তার পক্ষে প্রতিনিধি অনুরোধ করলে সাক্ষীদের স্বাক্ষরযুক্ত আটককৃত মালামালের
তালিকার একটি নকল দিতে হবে।উল্লেখ্য, তল্লাশির সময় উপস্থিত সাক্ষীদের যদি আদালত বিশেষভাবে সমন দিয়ে তলব না করে তাহলে ওই সাক্ষীদের আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেয়া যাবে না। যদি কোনো ব্যক্তির দেহে বেআইনি বস্তু লুকিয়ে আছে বলে সন্দেহ হয়, তাহলে পুলিশ তার দেহও তল্লাশি করতে পারবে। ফৌজদারি কার্যবিধির ১০৩(৪) ধারায় বলা হয়েছে, কার্যবিধির ১০২(৩) ধারা অনুসারে কোনো ব্যক্তির দেহ তল্লাশি করা যাবে। বলা হয়েছে, 'যে বস্তু সম্পর্কে তল্লাশি হওয়া উচিত, ওই স্থানে বা স্থানের কাছে কোনো ব্যক্তি ওই বস্তু তার দেহে লুকিয়ে রেখেছে বলে যদি যুক্তিসঙ্গতভাবে সন্দেহ করা যায়, তাহলে ওই ব্যক্তির দেহ তল্লাশি করা যেতে পারে।' সংশ্লিষ্ট ধারায় আরো বলা হয়েছে, সন্দিগ্ধ ব্যক্তি যদি নারী হন, তাহলে ৫২ ধারা অনুযায়ী নারীকে অবশ্যই নারী পুলিশ দিয়ে তল্লাশি করতে হবে। সেখানে নারী পুলিশ না থাকলে স্থানীয় কোনো নারীকে দিয়ে দেহ তল্লাশি করা যাবে এবং তা অবশ্যই কঠোর শালীনতার মধ্য দিয়ে করতে হবে। সন্দিগ্ধ কোনো স্থান বা বাড়ির তল্লাশির জন্য যেমন দুই বা ততোধিক গণ্যমান্য ব্যক্তিকে সাক্ষী হিসেবে থাকতে হয় ঠিক তেমনি ব্যক্তির তল্লাশির ক্ষেত্রেও তা অবশ্যই পালনযোগ্য।
ব্যক্তির কাছ থেকে আটককৃত জিনিসের তালিকা করবে পুলিশ এবং ওই ব্যক্তি চাইলেই একটি নকল তাকে দিতে হবে। উল্লেখ্য, ১০৩ ধারায় আরো উল্লেখ করা হয়েছে যে, লিখিত আদেশ দ্বারা আহ্বান জানানো সত্ত্বেও যদি কেউ যুক্তিসঙ্গত কারণ ছাড়া তল্লাশিতে উপস্থিত না থাকে ও সাক্ষী হতে অস্বীকার বা অবহেলা করে তবে তিনি দ-বিধির ১৮৭ ধারায় বর্ণিত অপরাধ করেছেন বলে ধরা হবে। দ-বিধির ১৮৭ ধারা মতে, 'কোনো ব্যক্তি সরকারি কর্মকর্তাকে সরকারি কোনো কাজে সহযোগিতায় ইচ্ছাকৃতভাবে অস্বীকৃতি জানালে বা বাধা দিলে তাকে একমাস পর্যন্ত যে কোনো মেয়াদের বিনাশ্রম কারাদ- অথবা দুইশত টাকা পর্যন্ত যে কোনো পরিমাণ জরিমানা দ-ে বা উভয়দ-ে দ-িত করা হবে।' নিয়ম অনুযায়ী কাউকে তল্লাশি বা আটক করার পর ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট পুলিশকে নিজের থানায় রিপোর্ট করতে হয়। ওই ব্যক্তির কাছে যদি অবৈধ কোনো কিছু পাওয়া না যায়, তাহলে 'অবৈধ কিছু পাওয়া যায়নি' এই মর্মে তল্লাশিকারী পুলিশ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে লিখিত একটি অনুলিপি দেবেন এবং এ ক্ষেত্রে রিপোর্টে দুজন দায়িত্বশীল ব্যক্তিকে সাক্ষী থাকতে হয়।
সুতরাং নাগরিকদের লক্ষ্য রাখতে হবে যে পুলিশ বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী কর্মকর্তা অথবা কোনো ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক তল্লাশির সময়ে স্থানীয় এক বা দুজন সম্মানিত ব্যক্তি সেই স্থানে উপস্থিত আছেন কিনা এবং তাদের দেখিয়ে সব মালামাল তল্লাশি করা হচ্ছে কিনা। তল্লাশির সময়ে কাউকে সন্দেহ হলে বা অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য আটক কিংবা গ্রেপ্তার করতে পারে পুলিশ। যদি পুলিশ বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য কোনো নাগরিককে আটক কিংবা গ্রেপ্তার করে তা অবশ্যই হতে হবে সুনির্দিষ্ট, বিশ্বাসযোগ্য ও যুক্তিসঙ্গত তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে। ওই ব্যক্তির যথাযথ মর্যাদা ও সম্মান বজায় রেখেই আটক করতে হবে। উদ্দিষ্ট ব্যক্তি যদি শিশু হয় তাহলে তার অভিভাবক বা সে যার ওপর বিশ্বাস ও আস্থা রাখে এমন বয়স্ক লোকের সামনে আটক করতে হবে। সাধারণত পুলিশ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছাড়া কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারে না। কিন্তু অনেক সময় বিধিসাপেক্ষে পরোয়ানা ছাড়াও অনেক সময় গ্রেপ্তার করতে পারে। ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারার ১ উপধারা মতে, একজন পুলিশ অফিসার ম্যাজিস্ট্রেটের ওয়ারেন্ট ছাড়াই কিছু কিছু ক্ষেত্রে একজন ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করতে পারেন। জন্য সংবাদপত্র বা গেজেটে ঘোষণা দেয়া হয়, যে ব্যক্তির কাছে চোরাইমাল আছে বলে সন্দেহ করা হয়, যে কারণেই আটক কিংবা গ্রেপ্তার করা হোক না কেন, ওই নাগরিকের কাছে পুলিশ নিজের পরিচয় প্রদান করবে। আসামিকে আটক বা গ্রেপ্তারের কারণ জানাতে হবে। যদি আসামি গ্রেপ্তার এড়াতে চেষ্টা করে তাহলে আসামির পলায়ন প্রতিরোধ করার জন্য যতটুকু বল প্রয়োগ করা প্রয়োজন ঠিক ততটুকু বল প্রয়োগ করতে হবে।
লেখক : মানবাধিকার কর্মী ও চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী, আইন বিভাগ, আইআইইউসি - See more at: http://www.jjdin.com/?view=details&archiev=yes&arch_date=15-10-2015&feature=yes&type=single&pub_no=1338&cat_id=3&menu_id=76&news_type_id=1&index=0#sthash.xjguFQZX.dpuf
সম্প্রতি
বেশ কয়েকটি হত্যার ঘটনায় রাজধানী ঢাকাসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলোতে
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অতিরিক্ত চেকপোস্ট বসিয়ে পথচারী, যানবাহন ও
যাত্রীদের তল্লাশি করছে। সন্দেহজনক প্রতিষ্ঠান এবং বাড়িতেও চলছে এই অভিযান।
- See more at:
http://www.jjdin.com/?view=details&archiev=yes&arch_date=15-10-2015&feature=yes&type=single&pub_no=1338&cat_id=3&menu_id=76&news_type_id=1&index=0#sthash.xjguFQZX.dpuf

