সামাজিক ব্যাধি যৌতুক সংক্রান্তে নতুন আইনে গেজেট প্রকাশিত হয়েছে । এতদিন ১৯৮০ সালের একটি অর্ডিন্যান্সের মাধ্যমে চলছিল। মূল আইনটি দ্য ডাউরি প্রহিবিশন অর্ডিন্যান্স ১৯৮০ হিসাবে প্রচলিত ছিল । প্রথমে ১৯৮০ সালে একটি আইন করা হয়। সেটা ১৯৮২ সালে একটি অর্ডিন্যান্সের মাধ্যমে সংশোধন করা হয়। এরপর ১৯৮৪, ১৯৮৬ সালে সংশোধন করা হয় অর্ডিন্যান্স দিয়ে। ওই অর্ডিনেন্সকে হালনাগাদ করে সময়ের চাহিদার প্রতিফলনে নতুনভাবে সমীচীন ও প্রয়োজন মনে করে সরকার নতুন আইন করল যৌতুক নিরোধ আইন, ২০১৮। যা অবিলম্বে কার্যকর হইবে বলা হয়েছে।
![]() |
অ্যাড.মো. রায়হানুল ওয়াজেদ চৌধুরী |
নতুন এই আইনে পূর্বের আইনের ধারাগুলো মোটামুটি একই রকম আছে। কিছু পরিবর্তন করে এটাকে আনা হয়েছে। সেগুলো আলোচনা করছি;
মিথ্যা মামলায় জেল জরিমানা
সবচেয়ে বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে, মিথ্যা-ভিত্তিহীন অভিযোগে যৌতুকের মামলা করলে জেল-জরিমানার বিধান রেখে নতুন ধারা সংযোগিত করা। আগের অর্ডিন্যান্সে যৌতুক নিয়ে মিথ্যা মামলার জন্য আইনে এত দিন কোনো জেল বা জরিমানার বিধান ছিল না। নতুন আইনে যৌতুক নিয়ে মিথ্যা মামলা করলে সর্বোচ্চ ৫ বছরের কারাদণ্ড অথবা সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। আইনের পাঁচ নম্বর ধারায় বলা হয়েছে— কেউ যদি যৌতুক সংক্রান্ত মিথ্যা মামলা দায়ের করেন, তারও সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের জেল থেকে সর্বনিম্ন একবছরের জেল বা ৫০ হাজার টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন। নতুন আইনে কারাদণ্ড ঠিক রাখা হয়েছে। শুধু জরিমানা নির্দিষ্ট করা হয়েছে।
মিথ্যা মামলায় জেল জরিমানা
সবচেয়ে বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে, মিথ্যা-ভিত্তিহীন অভিযোগে যৌতুকের মামলা করলে জেল-জরিমানার বিধান রেখে নতুন ধারা সংযোগিত করা। আগের অর্ডিন্যান্সে যৌতুক নিয়ে মিথ্যা মামলার জন্য আইনে এত দিন কোনো জেল বা জরিমানার বিধান ছিল না। নতুন আইনে যৌতুক নিয়ে মিথ্যা মামলা করলে সর্বোচ্চ ৫ বছরের কারাদণ্ড অথবা সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। আইনের পাঁচ নম্বর ধারায় বলা হয়েছে— কেউ যদি যৌতুক সংক্রান্ত মিথ্যা মামলা দায়ের করেন, তারও সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের জেল থেকে সর্বনিম্ন একবছরের জেল বা ৫০ হাজার টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন। নতুন আইনে কারাদণ্ড ঠিক রাখা হয়েছে। শুধু জরিমানা নির্দিষ্ট করা হয়েছে।
জরিমানা নির্ধারণ
আরও গুরুত্বপূর্ণ একটি পরিবর্তনটি হচ্ছে, পূর্বের আইনে যৌতুকের শাস্তি হিসাবে জরিমানার বিধান থাকলেও তার পরিমাণ উল্লেখ ছিল না।নতুন আইনে সেখানে পরিমাণ নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে। এই আইনে সর্বোচ্ছ ৫০ হাজার টাকা জরিমানার বিধান নির্ধারণ করা হয়েছে।
আরও গুরুত্বপূর্ণ একটি পরিবর্তনটি হচ্ছে, পূর্বের আইনে যৌতুকের শাস্তি হিসাবে জরিমানার বিধান থাকলেও তার পরিমাণ উল্লেখ ছিল না।নতুন আইনে সেখানে পরিমাণ নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে। এই আইনে সর্বোচ্ছ ৫০ হাজার টাকা জরিমানার বিধান নির্ধারণ করা হয়েছে।
যৌতুক দাবীর শাস্তি
পূর্বের অর্ডিন্যান্সেটির ৪ ধারায় যৌতুকের মামলা দায়ের করা হতো। এখন নতুন এই আইনের ৩ ধারায় যৌতুকের মামলা দায়ের করতে হবে। উক্ত ধারায় বলা হয়েছে, কেউ যৌতুক দাবি করলে তিনি পাঁচ বছরের জেল বা ৫০ হাজার টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।
পূর্বের অর্ডিন্যান্সেটির ৪ ধারায় যৌতুকের মামলা দায়ের করা হতো। এখন নতুন এই আইনের ৩ ধারায় যৌতুকের মামলা দায়ের করতে হবে। উক্ত ধারায় বলা হয়েছে, কেউ যৌতুক দাবি করলে তিনি পাঁচ বছরের জেল বা ৫০ হাজার টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।
যৌতুক দেয়া বা নেয়ার শাস্তি
পূর্বের অর্ডিন্যান্সেটির ৩ ধারার স্থানে নতুন আইনের ৪ ধারায় বলা হয়েছে, কেউ যৌতুক গ্রহণ করলে এবং প্রদান করলে উভয়েই দণ্ডিত হবেন। তারা সর্বোচ্চ ৫ বছরের জেল, সর্বনিম্ন ১ বছরের জেল বা ৫০ হাজার টাকা জরিমানা বা উভয়দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।
পূর্বের অর্ডিন্যান্সেটির ৩ ধারার স্থানে নতুন আইনের ৪ ধারায় বলা হয়েছে, কেউ যৌতুক গ্রহণ করলে এবং প্রদান করলে উভয়েই দণ্ডিত হবেন। তারা সর্বোচ্চ ৫ বছরের জেল, সর্বনিম্ন ১ বছরের জেল বা ৫০ হাজার টাকা জরিমানা বা উভয়দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।
এছাড়াও নতুন আইনে ১০ ধারায় বলা হয়েছে, যৌতুক নিরোধ আইন, ২০১৮ কার্যকর হবার সঙ্গে সঙ্গে পূর্বের দ্য ডাউরি প্রহিবিশন অর্ডিন্যান্স ১৯৮০ অ্যাক্ট টি রহিত করা হয়েছে। এবং উক্ত অ্যাক্টের অধীনে অর্থাৎ আগের যৌতুক নিরোধ আইন ১৯৮০ এর অধীন দায়েরকৃত কোন মামলা বিচারধীন থাকলে বা কোন মামলা তদন্তধীন থাকলে বা চলমান থাকিলে সেইসব অব্যাহত থাকবে অর্থাৎ সেইসব ক্ষেত্রে পূর্বের অ্যাক্টে রহিত হয় নাই বলে ধরা হবে।
সমাজে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং অপরাধ দমনে আইনে প্রণয়নের প্রয়োজন হয়। কিন্তু আইন করার পাশাপাশি আইনের প্রয়োগটা নিশ্চিত করাও অধিক গুরুত্বপূর্ণ। প্রয়োগ না থাকলে সমাজে আইনের তেমন প্রভাব বিস্তার করে না। আবার আইন করলেই যে সমাজে অপরাধ কমে যাবে তেমনটি বলা যায় না। এর জন্য আইন সম্পর্কে দেশের মানুষের শ্রদ্ধাবোধ থাকা চায়। আইনকে গ্রাহ্য করে চলার মধ্যেই এই সংস্কৃতি তৈরি হয়। ইতিপূর্বে সংসারজীবনে কোন অশান্তি বা সংসার ভেঙে যাওয়ার উপক্রম হলে বা স্বামীর সঙ্গে বনিবনা না হলেই যৌতুক আইনে প্রচুর মিথ্যা মামলা করা হতো।পুরুষরা বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হয়। আশা করি এ আইনটি যথাযথ প্রায়োগিকতায় যৌতুক সংক্রান্ত মিথ্যা মামলার প্রবণতা কমবে।
লেখক :
অ্যাড.মো. রায়হানুল ওয়াজেদ চৌধুরী
আইনজীবী, চট্রগ্রাম জজ কোর্ট
ইমেইল - ll.braihan@gmail.com
মোবাইল - ০১৮২৪১০০৮৯০
অ্যাড.মো. রায়হানুল ওয়াজেদ চৌধুরী
আইনজীবী, চট্রগ্রাম জজ কোর্ট
ইমেইল - ll.braihan@gmail.com
মোবাইল - ০১৮২৪১০০৮৯০





