The more you Read ,The more you Learn

শুক্রবার, ৯ মে, ২০২৫

২০২৫ সালে দেওয়ানি কার্যবিধি আইনের যে সংশোধন করা হয়েছে তা জেনে নিই সংক্ষেপে


১। বাদী-বিবাদীকে আদালতে দাঁড়িয়ে আরজি/জবাব মুখস্ত করে মৌখিক জবানবন্দি দিতে হবে না। এখন থেকে এফিডেভিট আকারে লিখিত জবানবন্দি জমা দিতে হবে হবে। আগে এই জবানবন্দি নিতে বাদীর প্রায় ২-৩ টি এবং বিবাদীর আরও ২-৩ টি তারিখ প্রয়োজন হতো এবং যার জন্য গড়ে প্রায় ২ বছর সময় লাগতো এখন সেটা কমে আসবে।

২। দেওয়ানি আদালত রায় ও আদেশ কার্যকর করতে পুলিশসহ যেকোনো আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নির্দেশ দিতে পারবে। এতে মামলার রায় বা আদেশের কার্যকারিতা বাড়বে এবং রায়/আদেশ দ্রুত বাস্তবায়ন সম্ভব হবে।

৩। দেওয়ানি মামলায় বিবাদীর জেল (দেওয়ানি আটকাদেশ) হলে তার জেলে থাকার খরচ সরকার বহন করবে। আগে বাদীকে উক্ত খরচ বাবদ সরকারকে অর্থ প্রদন করতে হতো। এতে মলার রায় পাওয়া বাদীর এখন থেকে আর অতিরিক্ত অর্থ খরচ করতে হবেনা, সরকারই এই ব্যয়ভার বহন করবে।

৪। রায় পাওয়ার পর পৃথক জারি মামলা করতে হবে না, মূল মামলার অধীনেই দরখাস্ত করে জারি কার্যক্রম করা যাবে। এতে নতুন জারি মামলার খরচ ও সময় বাচবে। 

৫। টাকা আদায়ের মামলায় (মানি স্যুট) বিশেষ জারির বিধান যুক্ত করা হয়েছে। এখন থেকে দেওয়ানি আদালত টাকা আদায়ের মামলায় ডিক্রিপ্রাপ্ত বাদীর আবেদনের ভিত্তিতে বিবাদীকে সর্বোচ্চ ৬ মাস পর্যন্ত জেল (দেওয়ানি আটকাদেশ) প্রদান করতে পারবে। 

৬। মামলা বিলম্বিত করতে সময়ের আবেদন করার সুযোগ কমছে। আগে একেকটি মামলায় ছয়বার পর্যন্ত সময় চাওয়া যেত। নতুন সংশোধনী অনুযায়ী এখন চারবারের বেশি সময় চাওয়া যাবে না। এতে মামলা নিষ্পত্তিতে দ্রুততা আসবে। 

৭। এখন থেকে মোবাইল ফোন, এসএমএস, ভয়েস কল ও ইনস্ট্যান্ট মেসেজিং এর মাধ্যমে সমন পাঠানো যাবে। মামলার আবেদন করার সময় প্রতিপক্ষের মোবাইল নম্বর, জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর এবং ইমেইল (যদি থাকে) উল্লেখ করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এতে সমন জারি প্রক্রিয়া দ্রুততর হবে এবং মামলা বিচারের জন্য দ্রুত প্রস্তুত হবে।

৮। একজন বিবাদী এখন আর একবারের বেশি একতরফা রায়-ডিক্রি বাতিলের আবেদন করতে পারবে না। এতে ডিক্রি হয়ে যাওয়ার পরে সেটা বাতিলের সুযোগ আগের চেয়ে কমে আসবে।

৯। মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলার ক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণের পরিমান বাড়িয়ে পঞ্চাশ হাজার টাকা করা হয়েছে যা আগে বিশ হাজার টাকা ছিল। এতে মিথ্যা ও হয়রানীমূলক মামলা দায়েরকারীকে এখন আরও বেশি জরিমানা করা যাবে এবং ক্ষতিগ্রস্ত বিবাদিকে মামলার খরচের পাশাপাশি আরও পঞ্চাশ হাজার টাকা পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়া যাবে।

১০। আপিল দায়েরের পরে আপিলকারী বা অপরপক্ষ শুনানির তারিখে কোর্টে উপস্থিত না থাকলে কোর্ট তাৎক্ষনিক বা একটি তারিখ ধার্য করে রায় দিয়ে দিতে পারবে। এতে করে আপিলে গিয়ে মামলা বিলম্বিত করার সুযোগ থাকবে না। 

নতুন এই বিধানের ফলে দেওয়ানি মামলা নিষ্পত্তি আগেরচেয়ে দ্রুততর হবে। তবে এর পূর্ণ সুবিধা পেতে হলে পর্যাপ্ত পরিমান বিচারক নিয়োগ করতে হবে। আশা করি সরকার প্রয়োজনীয় বিচারকের পদ সৃষ্টি করে বিচারপ্রার্থী সাধারণ মানুষের দ্রুত বিচার প্রাপ্তির অধিকার নিশ্চিত করবে।

©

লেবেল

ফৌজদারী দেওয়ানী টিপস দন্ডবিধি জুডিশিয়ারী অ্যাডভোকেটশীপ সাহিত্য - সংস্কৃতি আইনজীবী ইতিহাস ফৌজদারি কার্যবিধি রাজনীতি সম্পত্তি হস্তান্তর আইন অধিকার সংবিধান সফল জীবনী সুনিদিষ্ট প্রতিকার আইন Islam দেওয়ানী কার্যবিধি ধর্ম Civil Tips religion বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি চুক্তি আইন নারী ও শিশু নির্যাতন সাইবার ক্রাইম CONTRACT LAW আইন পেশায় টিকে থাকার লড়াই কোম্পানী আইন জিয়াউর রহমান তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইন দলিল পারিবারিক ফৌজদারি বিএনপি মানবাধিকার যুগান্তকারী রায় যৌতুক নিরোধ আইন ২০১৮ সাক্ষ্য আইন হাইকোর্টে মামলা Advocate Dress Income tax Lawyer Dress Stop vat on Education অ্যাডমিরাল মাহবুব আবহাওয়া আল্লামা ইকবাল ইয়াকুব মেমন এনআই অ্যাক্ট খাজা সলিমুল্লাহ গ্রেপ্তার চুরি চেক ডিজঅনার জাতীয় পতাকা বিধিমালা জাতীয় মানবাধিকার কমিশন জামিন জেনারেল জিয়াউর রহমান নবাব পশু জবাই আইন পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট ফরেনার্স অ্যাক্ট বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ বাংলাদেশ বার কাউন্সিল বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতিগণ বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা বিচারপতি সৈয়দ রিফাত আহমেদ বিশেষ ক্ষমতা আইন ব্যারিস্টার ইশতিয়াক আহমেদ ব্যারিস্টার রফিক-উল হক মাংসের মান নিয়ন্ত্রণ আইন মোবাইল কোর্ট রায়তী স্বত্বীয় খাস দখলী" বাক্যটির অর্থ কি রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান শহীদ প্রেসিডেন্ট হাইকোর্ট হিন্দু উত্তরাধিকার আইন