আমাদের এই প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশে চিরায়ত সমাজ ব্যবস্থায় দেখতে পাই যে,একজন নারী বিয়ের পর তার
সবটুকু দিয়ে পরিবারটাকে আপন করে নিতে চাই । আমৃতু্য স্বামীর অবলম্বন হয়ে সংসারে ঠিকে থাকতে চাই । শত
অত্যাচার নিগ্রহ নিপীড়ন নির্যাতন তথা লাঞ্ছনা সহ্য করে সুখী সংসার প্রয়াসে চেস্টা করে । জীবন সংসারে বেচে থাকার আপ্রাণ চেস্টা করে । কিন্তু তা হয়ে উঠে না অনেকের জীবনে । পুরুষশাসিত এই সমাজে এখনো নারীদের অধিকার বাস্তবায়ন অধরা রয়ে গেছে। ” পুরুষই সর্বময় ক্ষমতার একচ্ছত্র অধিকারী” দৃঢপ্রতিষ্ঠিত । এমনকি বহু শিক্ষিত পরিবারে মাঝে তা লক্ষ করা যায় । যার কারণে নারীরা পাচ্ছে না তাদের ন্যায অধিকার । সমাজে প্রায় দেখা যায় নারীরা তাদের অধিকার প্রয়োগ করতে অসচেতন বা জানলেও নানা বাধা বিপত্তি ও ঝামেলার সম্মুখীন হতে হয় তার প্রয়োগে। যেমনটি তালাক প্রদানের বিষয়টি। শুধু যে পুরুষ তথা স্বামী চাইলে স্ত্রী কে তালাক দিতে পারে তা কিন্তু নয় । ক্ষেত্রবিশেষে একজন নারী তথা স্ত্রীও কিন্তু স্বামীকে তালাক দেওয়ার অধিকার রাখে বা দিতে পারে । কত শতাংশ মনারী বা জানে এই অধিকার সম্বন্ধে ? বা জানলেও তারা কি বাস্তবায়ন করতে পারে? প্রদানের অধিকার রাখে ? বা কখন স্ত্রী স্বামীকে তালাক দিতে পারে? অথবা কিভাবে একজন স্ত্রী স্বামীকে তালাক তথা বিবাহ বিচ্ছেদ চাইতে পারে? আজ আলোচনা করবো সে সব বিষয়ে। প্রথমেই জেনে নিই তালাক সম্পর্কে ।
সবটুকু দিয়ে পরিবারটাকে আপন করে নিতে চাই । আমৃতু্য স্বামীর অবলম্বন হয়ে সংসারে ঠিকে থাকতে চাই । শত
অত্যাচার নিগ্রহ নিপীড়ন নির্যাতন তথা লাঞ্ছনা সহ্য করে সুখী সংসার প্রয়াসে চেস্টা করে । জীবন সংসারে বেচে থাকার আপ্রাণ চেস্টা করে । কিন্তু তা হয়ে উঠে না অনেকের জীবনে । পুরুষশাসিত এই সমাজে এখনো নারীদের অধিকার বাস্তবায়ন অধরা রয়ে গেছে। ” পুরুষই সর্বময় ক্ষমতার একচ্ছত্র অধিকারী” দৃঢপ্রতিষ্ঠিত । এমনকি বহু শিক্ষিত পরিবারে মাঝে তা লক্ষ করা যায় । যার কারণে নারীরা পাচ্ছে না তাদের ন্যায অধিকার । সমাজে প্রায় দেখা যায় নারীরা তাদের অধিকার প্রয়োগ করতে অসচেতন বা জানলেও নানা বাধা বিপত্তি ও ঝামেলার সম্মুখীন হতে হয় তার প্রয়োগে। যেমনটি তালাক প্রদানের বিষয়টি। শুধু যে পুরুষ তথা স্বামী চাইলে স্ত্রী কে তালাক দিতে পারে তা কিন্তু নয় । ক্ষেত্রবিশেষে একজন নারী তথা স্ত্রীও কিন্তু স্বামীকে তালাক দেওয়ার অধিকার রাখে বা দিতে পারে । কত শতাংশ মনারী বা জানে এই অধিকার সম্বন্ধে ? বা জানলেও তারা কি বাস্তবায়ন করতে পারে? প্রদানের অধিকার রাখে ? বা কখন স্ত্রী স্বামীকে তালাক দিতে পারে? অথবা কিভাবে একজন স্ত্রী স্বামীকে তালাক তথা বিবাহ বিচ্ছেদ চাইতে পারে? আজ আলোচনা করবো সে সব বিষয়ে। প্রথমেই জেনে নিই তালাক সম্পর্কে ।
“তালাক” একটি আরবি শব্দ। যার আভিধানিক অর্থ হলো কিছু ভেঙ্গে ফেলা , ছিন্ন করা, বা ত্যাগ করা । সাধারণ অর্থে, আইনসিদ্ধ উপায়ে বিবাহ বন্ধন ছিন্ন করা কে তালাক বলে। মুসলিম আইনে তালাক স্বামী-স্ত্রীর একটি বৈধ ও স্বীকৃত অধিকার এবং দেওয়ানী চুক্তি । যদি স্বামী স্ত্রীরপারস্পরিক সম্পর্ক তথা দাম্পত্য জীবন এমন অবস্থায় পৌঁছায় যে, একত্রে বসবাস করা উভয়ের পক্ষেই বা যে কোন একজনের পক্ষে সম্ভব নয়, তাহলে সেক্ষেত্রে তারা উভয়েই কিছু
নির্দিষ্ট উপায়ে বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটাতে তথা তালাক প্রদান করতে পারে। অবশ্য তালাক প্রদানের ক্ষমতা বা অধিকার
স্বামী ও স্ত্রীর সমান নয় । এক্ষেত্রে স্বামীর একচ্ছত্র অধিকার থাকলেও নির্দিষ্ট কিছু আইনানুগ উপায়ে একজন স্ত্রীও তালাক প্রদান করতে পারে । আর স্ত্রীর এই অধিকারকে তিনভাবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে ; এক, তালাক- ই-তৌফিজ, দুই, খুলা, তিন, আদালতের মাধ্যমে বিচ্ছেদ। এখন উপরোক্ত তিনটি বিষয়ের উপর বিস্তারিত আলোচনা করা তালাক-ই-তৌফিজ সহজ কথায়, তালাক-ই-তৌফিজ হলো স্বামী কর্তৃক স্ত্রীকে প্রদত্ত তালাক প্রদানের ক্ষমতা। অর্থাৎ স্বামী যদি স্ত্রীকে বিবাহ রেজিস্ট্রির তথা কাবিন নামা’র ১৮ নং কলামে বিয়ে বিচ্ছেদের ক্ষমতা ক্ষমতা অর্পন করে থাকে এবং সে ক্ষমতার বলে স্ত্রী যদি স্বামীর কাছ থেকে বিচ্ছেদচায় তাহলে সে বিচ্ছেদকে তাকে ‘তালাক-ই- তৌফিজ’ বলে। এক্ষেত্রে স্ত্রী আদালতের আশ্রয় ছাড়াই স্বামীকে তালাক দিতে পারেন। তালাক-ই-তৌফিজের ক্ষেত্রে ১৯৬১ সালের মুসলিম পারবারিক অর্ডিন্যান্সের ৭ ধারায় বর্ণিত নিয়ম অনুসরণ করতে হয়। স্ত্রী তালাকের নোটিশ কপি চেয়ারম্যানের কাছে পাঠাবেন ও এক কপি স্বামীর কাছে পাঠাবেন। নোটিশ কার্যকর হবে। এজন্য নিকাহনামার ১৮নং ঘরটি এ জন্য অত্যনত্ম গুরম্নত্বের সঙ্গে পূরণ করা উচিত। অনেক সময়প্রশ্নকারীরা এই প্রশ্নটি করেন না এবং ঘরটি শূন্য থাকে। কাজীদের অবশ্যই দু’ পক্ষকে এই ঘরটি সম্পর্কে অবগত করা উচিত। এবং বর ও কনে পক্ষ উভয়েরও বিষয়টি অবশ্যই খেয়াল রাখা উচিৎ ।স্বামী যদি এই ঘরটি পূরণ না করে অর্থাৎ কোন কিছুই উলেস্নখ না করে অথবা কেবল সীমাবদ্ধ দু’তিনটি বা একটি ৰেত্রে এই ক্ষমতা প্রদান করে, তখন স্ত্রীর তালাক প্রদান করার ক্ষমতা সীমিত হয়ে যায়। বলতে গেলে, মুসলিম আইনে ‘তালাক-ই- তৌফিজ’-এর সংযোজন একটি নতুন ইতিবাচক এবং গুরুত্বপূর্ন সংযোজন । স্ত্রী কর্তৃক স্বামীকে তালাক প্রদানের অধিকারের আরও একটি উপায় হলো “খুলা”। এখন সে বিষয়ে আলোচনা করা যাক। সহজ কথায় খুলা হলো , স্বামী এবং স্ত্রীর আলোচনা সাপেক্ষে বিবাহ বিচ্ছেদ । স্বামীকে ‘খুলা’ র মাধ্যমে বিবাদ বিচ্ছেদে রাজী করানোর দায়িত্ব হচ্ছে স্ত্রীর অর্থাৎ বিচ্ছেদের উদ্যোগ অবশ্যই স্ত্রীর কাছ থেকে হতে হবে। । প্রয়োজনে স্ত্রী স্বামীকে কোন কিছুর বিনিময় প্রদান করবেন । সাধারণত বিনিময় বা ক্ষতিপূরণ হিসেবে স্ত্রী তার আর্থিক দাবির কোনো অংশ ত্যাগ করে । এক্ষেত্রে স্বামী রাজী থাকলে এভাবে বিচ্ছেদ ঘটতে পারে। খোলা তালাকের ক্ষেত্রে অন্য কোনো চুক্তি না থাকলে স্ত্রী মোহরানা পাওয়ার অধিকারী হবেন না; কিন্তু ইদ্দত পালনকালে স্ত্রী তাঁর গর্ভের সন্তানের জন্য স্বামীর কাছ থেকে ভরণপোষণ পাওয়ার অধিকারী হবেন। ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইন অনুযায়ী এক্ষেত্রে প্রস্তাবক যেহেতু স্ত্রী, সেহেতু তালাকের নোটিশ স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান/ পৌরসভার চেয়ারম্যান/ সিটি কর্পোরেশন বরাবরে স্ত্রীই পাঠাবে। স্ত্রী কর্তৃক স্বামীকে তালাক প্রদানের আরও একটি উপায় হলো “আদালতের মাধ্যমে বিচ্ছেদ” স্ত্রী যদি তালাক-ই-তৌফিজ ও খুলার মাধ্যমে বিবাহ বিচ্ছেদ নিতে না পারে এবং বিবাহ বিচ্ছেদ হওয়া একান্ত প্রয়োজন মনে করে তাহলে তাকে ১৯৩৯ সালের মুসলিম বিবাহ বিচ্ছেদ আইনে বর্ণিত নিয়ম অনুসরণ করতে হবে (ধারা ২)। সেই আইনে অত্যন্ত সুষ্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে কি কি কারণে একজন স্ত্রী আদালতে বিয়ে বিচ্ছেদের আবেদন করতে পারবে। এক্ষেত্রে স্ত্রীকে পারিবারিক আদালতে আইন অনুযায়ী উপযুক্ত কারণ দেখিয়ে তালাকের জন্য প্রতিকার চাইতে হবে। আদালতের ডিক্রিমূলে তখন স্ত্রীর তালাক কার্যকর হবে।
আইন অনুযায়ী স্ত্রী যেসব কারণে আদালতে তালাক চাইতে পারেন সেইগুলো হলো :-
১. চার বছর পর্যন্ত স্বামী নিরুদ্দেশ থাকলে। অর্থাৎ যদি একটানা চার বছরের অধিক স্বামীর কোন খোজ খবর পাওয়া না গেলে পাওয়া ।
২. দুই বৎসর স্বামী স্ত্রীর খোরপোষ দিতে ব্যর্থ হলে। অর্থাৎ, একটানা দুই বছরের অধিক সময় স্ত্রীর প্রাপ্য সকল ব্যয়ভার তথা যুক্তি ভরণ পোষণ দিতে স্বামী ব্যর্থ হলে।
৩. স্বামীর সাত বৎসর কিংবা তার চেয়েও বেশী কারাদন্ড হলে। অর্থাৎ, আদালত কর্তৃক প্রদত্ত রায়ে স্বামীর সাত বৎসর বা তার বেশী সময়ের জন্য কোন প্রকারের কারাদণ্ডে দন্ডিত হলে । এবং সেই সময়ের পূর্বে মুক্তি পাওয়ার কোন সম্ভাবনা না থাকলে ।
৪. স্বামী কোন যুক্তিসংগত কারণ ব্যতীত তিন বছর যাবৎ দাম্পত্য দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে।
৫. বিয়ের সময় পুরষত্বহীন থাকলে এবং তা মামলা দায়ের করা পর্যন্ত বজায় থাকলে।
৬. স্বামী দুই বৎসর ধরে অপ্রকৃতিস্থ বা পাগল থাকলে অথবা কুষ্ঠরোগ ব্যাধিতে বা মারাত্মক যৌন ব্যধিতে আক্রান্ত থাকলে। অর্থাৎ এমন কোন রোগে দীর্ঘদিন ধরে আক্রান্ত হওয়া যা সেরে উঠা খুবই ক্ষীণ ।
৭. বিবাহ অস্বীকার করলে। যদি কোন মেয়ের বাবা বা অভিভাবক মেয়েকে ১৮ বছর বয়স হওয়ার আগে বিয়ে দেন, এবং সেই মেয়েটি ১৯ বছর হওয়ার আগে বিয়ে অস্বীকার করে বিয়ে ভেঙ্গে দিতে পারে, তবে শর্ত থাকে যে,মেয়েটির স্বামীর সঙ্গে দাম্পত্য সর্ম্পক (সহবাস) স্থাপিত না হয়ে থাকে তখনি কোন বিয়ে অস্বীকারকরে আদালতে বিচ্ছেদের ডিক্রি চাইতে পারবে।
৮. স্বামী একাধিক স্ত্রী গ্রহণ করলে। অর্থাৎ স্বামী ১৯৬১ সনের মুসলিম পারিবারিক আইনের বিধান লংঘন করে একাধিক স্ত্রী গ্রহণ করলে।
৯. স্বামীর নিষ্ঠুরতার কারণে। অর্থাৎ নিম্নলিখিত যে কোন অর্থে স্ত্রীর সঙ্গে স্বামী নিষ্ঠুর আচরণ করলে_
ক) অভ্যাসগত আচরণে স্ত্রীকে আঘাত করলে বা নিষ্ঠুর আচরণ করলে, উক্ত আচরণ দৈহিক পীড়নের পর্যায়ে না পড়লেও, তার জীবন শোচনীয় বা দুর্বিষহ করে তুলেছে এমন হলে।
খ) স্বামী কোন খারাপ নারীর বা মেলামেশা তথা সম্পর্কস্থাপন করলে।
গ) স্ত্রীকে অনৈতিক জীবনযাপনে বাধ্য করলে।
ঘ) স্ত্রীর সম্পত্তি নষ্ট করলে। স্ত্রীর সম্পত্তি হস্তান্তর করে দিলে বা সম্পত্তিতে বৈধ অধিকার প্রয়োগ থেকে তাঁকে নিবারণ করলে ।
ঙ)স্ত্রীকে নিজস্ব ধর্মপালনে বাধা দিলে।
চ) যদি স্বামীর একাধিক স্ত্রী থাকে, এবং তাদের সঙ্গে পবিত্র কোরানের নির্দেশ অনুসারে সমান ব্যবহার না করলে।
ছ) এছাড়া মুসলিম আইনে বিবাহবিচ্ছেদের আদালতে বিবাহবিচ্ছেদের দাবি করতে পারবে।
এখানে একটি বিষয় উল্লেখ্য যে,’নিষ্ঠুরতা’ বলতে শুধু শারীরিক নির্যাতন কে বোঝাবে না বরং যে কোনো মানসিক হবে । ১৯৩৯ সালের মুসলিম বিবাহ বিচ্ছেদ আইনে ‘নিষ্ঠুরতা’ শব্দটি ব্যাপক অর্থে ব্যবহার করা হয়েছে। একথা বিভিন্ন করেছে ; যেমন, হাসিনা আহমেদ মামলায় আদালত মন্তব্য করেছেন যে স্ত্রীর অন্য কারো সাথে অবৈধ সম্পর্ক আছে বলে প্রতিনিয়ত করা হলে স্ত্রী আদালতে বিবাহ বিচ্ছেদ মামলায় আদালত ‘নিষ্ঠুরতা’ শব্দের একটি ব্যাখ্যা প্রদান করেছেন। উক্ত ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে যে,’নিষ্ঠুরতা বলতে শুধুমাত্র শারীরিক নির্যাতন বোঝাবে না বরং সচ্ছল কোনো পরিবারে কোনো স্ত্রীকে (যার অভ্যাস নাই) যদি প্রাত্যহিক গৃহকর্ম উপরে যে কোন এক বা একাধিক কারণে স্ত্রী আদালতে বিয়েবিচ্ছেদের আবেদন করতে পারে। অভিযোগ প্রমাণের হলে স্ত্রী বিচ্ছেদের পক্ষে ডিক্রি পেতে পারে । যদি আদালত বিচ্ছেদের ডিক্রি দেয় তাহলে তার পরের সাত দিনের মধ্যে একটি সত্যায়িত কপি আদালতের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট চেয়ারম্যানের অর্থাৎ ইউনিয়ন পরিষদ অথবা মিউনিসিপ্যালিটির বা সিটি করপোরেশনের চেয়ারম্যান বা মেয়রের কাছে পাঠাবে। স্বামীর অবস্থান জানা না থাকলে মুসলিম বিয়ে-বিচ্ছেদ আইন ১৯৩৯-এর ধারা ৩ অনুসারে তার=মউত্তরাধিকারগণের কাছে নোটিস দিতে হবে। ১৯৬১ সনের মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ অনুযায়ী চেয়ারম্যান নোটিশকে তালাক সংক্রান্ত নোটিশ হিসেবে গণ্য করে আইনানুযায়ী পদক্ষেপ নিবে এবং চেয়ারম্যান যেদিন নোটিশ পাবে সে দিন থেকে ঠিক নব্বই দিন পর তালাক চূড়ান্তভাবে কার্যকর হবে। গর্ভাবস্থায় বিবাহ বিচ্ছেদ হলে সন্তান ভূমিষ্ট না হওয়া পর্যন্ত তালাক কার্যকরী হবে না৷ এক্ষেত্রে ৯০ দিন এবং সন্তান ভূমিষ্ট হওয়ার মধ্যে যেদিনটি পরে হবে সেদিন থেকে তালাক কার্যকরী হবে৷ অর্থাৎ স্ত্রী গর্ভবতী হলে, কার্যকর হবে না৷ স্ত্রী তালাক দিলেও মোহরানার টাকা তাঁকে দিতে হবে এবং তালাক কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত ভরণপোষণ করতে হবে । তবে দাম্পত্য মিলন না ঘটলে এবং মোহরানা সুনির্দিষ্ট হয়ে থাকলে স্ত্রী মোহরানার অর্ধেকের অধিকারী। আর নির্ধারিত না থাকলে স্ত্রী তিনটি পোষাক উপহার পাবে। ১৯৩৯ আইনের ধারা নং ৫-এ স্পষ্টভাবে বলা আছে যে, এই আইনে অনত্মভর্ুক্ত কোন কিছুই কোন বিবাহিত নারীর বিয়ে-বিচ্ছেদের ফলে মুসলিম আইনানুসারে তার দেনমোহর বা এর কোন অংশের ওপর কোন অধিকারকেই প্রভাবিত করবে না। মূলত উপরোক্ত তিনটি উপায়ে একজন নারী বা স্ত্রী বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটাতে পারে । কিন্তু প্রায় সময় বাস্তবায়নে নারীদের নানা বাধা বিপত্তি ও ঝামেলা সম্মুখীন হতে হয় । এমনকি আপনজনদের সাহায্যসহযোগিতা পাওয়া যায় না ঐ সময় । এজন্যআমাদের সকলের দৃস্টিভঙ্গি ইতিবাচক হওয়া উচিৎ বা পরিবর্তন করা দরকার । আইনি সচেতনতা সৃষ্টি করে নারীদের প্রাপ্য ও ন্যায অধিকার বাস্তবায়নের সকলের এগিয়ে আসা উচিৎ ।
নির্দিষ্ট উপায়ে বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটাতে তথা তালাক প্রদান করতে পারে। অবশ্য তালাক প্রদানের ক্ষমতা বা অধিকার
স্বামী ও স্ত্রীর সমান নয় । এক্ষেত্রে স্বামীর একচ্ছত্র অধিকার থাকলেও নির্দিষ্ট কিছু আইনানুগ উপায়ে একজন স্ত্রীও তালাক প্রদান করতে পারে । আর স্ত্রীর এই অধিকারকে তিনভাবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে ; এক, তালাক- ই-তৌফিজ, দুই, খুলা, তিন, আদালতের মাধ্যমে বিচ্ছেদ। এখন উপরোক্ত তিনটি বিষয়ের উপর বিস্তারিত আলোচনা করা তালাক-ই-তৌফিজ সহজ কথায়, তালাক-ই-তৌফিজ হলো স্বামী কর্তৃক স্ত্রীকে প্রদত্ত তালাক প্রদানের ক্ষমতা। অর্থাৎ স্বামী যদি স্ত্রীকে বিবাহ রেজিস্ট্রির তথা কাবিন নামা’র ১৮ নং কলামে বিয়ে বিচ্ছেদের ক্ষমতা ক্ষমতা অর্পন করে থাকে এবং সে ক্ষমতার বলে স্ত্রী যদি স্বামীর কাছ থেকে বিচ্ছেদচায় তাহলে সে বিচ্ছেদকে তাকে ‘তালাক-ই- তৌফিজ’ বলে। এক্ষেত্রে স্ত্রী আদালতের আশ্রয় ছাড়াই স্বামীকে তালাক দিতে পারেন। তালাক-ই-তৌফিজের ক্ষেত্রে ১৯৬১ সালের মুসলিম পারবারিক অর্ডিন্যান্সের ৭ ধারায় বর্ণিত নিয়ম অনুসরণ করতে হয়। স্ত্রী তালাকের নোটিশ কপি চেয়ারম্যানের কাছে পাঠাবেন ও এক কপি স্বামীর কাছে পাঠাবেন। নোটিশ কার্যকর হবে। এজন্য নিকাহনামার ১৮নং ঘরটি এ জন্য অত্যনত্ম গুরম্নত্বের সঙ্গে পূরণ করা উচিত। অনেক সময়প্রশ্নকারীরা এই প্রশ্নটি করেন না এবং ঘরটি শূন্য থাকে। কাজীদের অবশ্যই দু’ পক্ষকে এই ঘরটি সম্পর্কে অবগত করা উচিত। এবং বর ও কনে পক্ষ উভয়েরও বিষয়টি অবশ্যই খেয়াল রাখা উচিৎ ।স্বামী যদি এই ঘরটি পূরণ না করে অর্থাৎ কোন কিছুই উলেস্নখ না করে অথবা কেবল সীমাবদ্ধ দু’তিনটি বা একটি ৰেত্রে এই ক্ষমতা প্রদান করে, তখন স্ত্রীর তালাক প্রদান করার ক্ষমতা সীমিত হয়ে যায়। বলতে গেলে, মুসলিম আইনে ‘তালাক-ই- তৌফিজ’-এর সংযোজন একটি নতুন ইতিবাচক এবং গুরুত্বপূর্ন সংযোজন । স্ত্রী কর্তৃক স্বামীকে তালাক প্রদানের অধিকারের আরও একটি উপায় হলো “খুলা”। এখন সে বিষয়ে আলোচনা করা যাক। সহজ কথায় খুলা হলো , স্বামী এবং স্ত্রীর আলোচনা সাপেক্ষে বিবাহ বিচ্ছেদ । স্বামীকে ‘খুলা’ র মাধ্যমে বিবাদ বিচ্ছেদে রাজী করানোর দায়িত্ব হচ্ছে স্ত্রীর অর্থাৎ বিচ্ছেদের উদ্যোগ অবশ্যই স্ত্রীর কাছ থেকে হতে হবে। । প্রয়োজনে স্ত্রী স্বামীকে কোন কিছুর বিনিময় প্রদান করবেন । সাধারণত বিনিময় বা ক্ষতিপূরণ হিসেবে স্ত্রী তার আর্থিক দাবির কোনো অংশ ত্যাগ করে । এক্ষেত্রে স্বামী রাজী থাকলে এভাবে বিচ্ছেদ ঘটতে পারে। খোলা তালাকের ক্ষেত্রে অন্য কোনো চুক্তি না থাকলে স্ত্রী মোহরানা পাওয়ার অধিকারী হবেন না; কিন্তু ইদ্দত পালনকালে স্ত্রী তাঁর গর্ভের সন্তানের জন্য স্বামীর কাছ থেকে ভরণপোষণ পাওয়ার অধিকারী হবেন। ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইন অনুযায়ী এক্ষেত্রে প্রস্তাবক যেহেতু স্ত্রী, সেহেতু তালাকের নোটিশ স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান/ পৌরসভার চেয়ারম্যান/ সিটি কর্পোরেশন বরাবরে স্ত্রীই পাঠাবে। স্ত্রী কর্তৃক স্বামীকে তালাক প্রদানের আরও একটি উপায় হলো “আদালতের মাধ্যমে বিচ্ছেদ” স্ত্রী যদি তালাক-ই-তৌফিজ ও খুলার মাধ্যমে বিবাহ বিচ্ছেদ নিতে না পারে এবং বিবাহ বিচ্ছেদ হওয়া একান্ত প্রয়োজন মনে করে তাহলে তাকে ১৯৩৯ সালের মুসলিম বিবাহ বিচ্ছেদ আইনে বর্ণিত নিয়ম অনুসরণ করতে হবে (ধারা ২)। সেই আইনে অত্যন্ত সুষ্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে কি কি কারণে একজন স্ত্রী আদালতে বিয়ে বিচ্ছেদের আবেদন করতে পারবে। এক্ষেত্রে স্ত্রীকে পারিবারিক আদালতে আইন অনুযায়ী উপযুক্ত কারণ দেখিয়ে তালাকের জন্য প্রতিকার চাইতে হবে। আদালতের ডিক্রিমূলে তখন স্ত্রীর তালাক কার্যকর হবে।
আইন অনুযায়ী স্ত্রী যেসব কারণে আদালতে তালাক চাইতে পারেন সেইগুলো হলো :-
১. চার বছর পর্যন্ত স্বামী নিরুদ্দেশ থাকলে। অর্থাৎ যদি একটানা চার বছরের অধিক স্বামীর কোন খোজ খবর পাওয়া না গেলে পাওয়া ।
২. দুই বৎসর স্বামী স্ত্রীর খোরপোষ দিতে ব্যর্থ হলে। অর্থাৎ, একটানা দুই বছরের অধিক সময় স্ত্রীর প্রাপ্য সকল ব্যয়ভার তথা যুক্তি ভরণ পোষণ দিতে স্বামী ব্যর্থ হলে।
৩. স্বামীর সাত বৎসর কিংবা তার চেয়েও বেশী কারাদন্ড হলে। অর্থাৎ, আদালত কর্তৃক প্রদত্ত রায়ে স্বামীর সাত বৎসর বা তার বেশী সময়ের জন্য কোন প্রকারের কারাদণ্ডে দন্ডিত হলে । এবং সেই সময়ের পূর্বে মুক্তি পাওয়ার কোন সম্ভাবনা না থাকলে ।
৪. স্বামী কোন যুক্তিসংগত কারণ ব্যতীত তিন বছর যাবৎ দাম্পত্য দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে।
৫. বিয়ের সময় পুরষত্বহীন থাকলে এবং তা মামলা দায়ের করা পর্যন্ত বজায় থাকলে।
৬. স্বামী দুই বৎসর ধরে অপ্রকৃতিস্থ বা পাগল থাকলে অথবা কুষ্ঠরোগ ব্যাধিতে বা মারাত্মক যৌন ব্যধিতে আক্রান্ত থাকলে। অর্থাৎ এমন কোন রোগে দীর্ঘদিন ধরে আক্রান্ত হওয়া যা সেরে উঠা খুবই ক্ষীণ ।
৭. বিবাহ অস্বীকার করলে। যদি কোন মেয়ের বাবা বা অভিভাবক মেয়েকে ১৮ বছর বয়স হওয়ার আগে বিয়ে দেন, এবং সেই মেয়েটি ১৯ বছর হওয়ার আগে বিয়ে অস্বীকার করে বিয়ে ভেঙ্গে দিতে পারে, তবে শর্ত থাকে যে,মেয়েটির স্বামীর সঙ্গে দাম্পত্য সর্ম্পক (সহবাস) স্থাপিত না হয়ে থাকে তখনি কোন বিয়ে অস্বীকারকরে আদালতে বিচ্ছেদের ডিক্রি চাইতে পারবে।
৮. স্বামী একাধিক স্ত্রী গ্রহণ করলে। অর্থাৎ স্বামী ১৯৬১ সনের মুসলিম পারিবারিক আইনের বিধান লংঘন করে একাধিক স্ত্রী গ্রহণ করলে।
৯. স্বামীর নিষ্ঠুরতার কারণে। অর্থাৎ নিম্নলিখিত যে কোন অর্থে স্ত্রীর সঙ্গে স্বামী নিষ্ঠুর আচরণ করলে_
ক) অভ্যাসগত আচরণে স্ত্রীকে আঘাত করলে বা নিষ্ঠুর আচরণ করলে, উক্ত আচরণ দৈহিক পীড়নের পর্যায়ে না পড়লেও, তার জীবন শোচনীয় বা দুর্বিষহ করে তুলেছে এমন হলে।
খ) স্বামী কোন খারাপ নারীর বা মেলামেশা তথা সম্পর্কস্থাপন করলে।
গ) স্ত্রীকে অনৈতিক জীবনযাপনে বাধ্য করলে।
ঘ) স্ত্রীর সম্পত্তি নষ্ট করলে। স্ত্রীর সম্পত্তি হস্তান্তর করে দিলে বা সম্পত্তিতে বৈধ অধিকার প্রয়োগ থেকে তাঁকে নিবারণ করলে ।
ঙ)স্ত্রীকে নিজস্ব ধর্মপালনে বাধা দিলে।
চ) যদি স্বামীর একাধিক স্ত্রী থাকে, এবং তাদের সঙ্গে পবিত্র কোরানের নির্দেশ অনুসারে সমান ব্যবহার না করলে।
ছ) এছাড়া মুসলিম আইনে বিবাহবিচ্ছেদের আদালতে বিবাহবিচ্ছেদের দাবি করতে পারবে।
এখানে একটি বিষয় উল্লেখ্য যে,’নিষ্ঠুরতা’ বলতে শুধু শারীরিক নির্যাতন কে বোঝাবে না বরং যে কোনো মানসিক হবে । ১৯৩৯ সালের মুসলিম বিবাহ বিচ্ছেদ আইনে ‘নিষ্ঠুরতা’ শব্দটি ব্যাপক অর্থে ব্যবহার করা হয়েছে। একথা বিভিন্ন করেছে ; যেমন, হাসিনা আহমেদ মামলায় আদালত মন্তব্য করেছেন যে স্ত্রীর অন্য কারো সাথে অবৈধ সম্পর্ক আছে বলে প্রতিনিয়ত করা হলে স্ত্রী আদালতে বিবাহ বিচ্ছেদ মামলায় আদালত ‘নিষ্ঠুরতা’ শব্দের একটি ব্যাখ্যা প্রদান করেছেন। উক্ত ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে যে,’নিষ্ঠুরতা বলতে শুধুমাত্র শারীরিক নির্যাতন বোঝাবে না বরং সচ্ছল কোনো পরিবারে কোনো স্ত্রীকে (যার অভ্যাস নাই) যদি প্রাত্যহিক গৃহকর্ম উপরে যে কোন এক বা একাধিক কারণে স্ত্রী আদালতে বিয়েবিচ্ছেদের আবেদন করতে পারে। অভিযোগ প্রমাণের হলে স্ত্রী বিচ্ছেদের পক্ষে ডিক্রি পেতে পারে । যদি আদালত বিচ্ছেদের ডিক্রি দেয় তাহলে তার পরের সাত দিনের মধ্যে একটি সত্যায়িত কপি আদালতের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট চেয়ারম্যানের অর্থাৎ ইউনিয়ন পরিষদ অথবা মিউনিসিপ্যালিটির বা সিটি করপোরেশনের চেয়ারম্যান বা মেয়রের কাছে পাঠাবে। স্বামীর অবস্থান জানা না থাকলে মুসলিম বিয়ে-বিচ্ছেদ আইন ১৯৩৯-এর ধারা ৩ অনুসারে তার=মউত্তরাধিকারগণের কাছে নোটিস দিতে হবে। ১৯৬১ সনের মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ অনুযায়ী চেয়ারম্যান নোটিশকে তালাক সংক্রান্ত নোটিশ হিসেবে গণ্য করে আইনানুযায়ী পদক্ষেপ নিবে এবং চেয়ারম্যান যেদিন নোটিশ পাবে সে দিন থেকে ঠিক নব্বই দিন পর তালাক চূড়ান্তভাবে কার্যকর হবে। গর্ভাবস্থায় বিবাহ বিচ্ছেদ হলে সন্তান ভূমিষ্ট না হওয়া পর্যন্ত তালাক কার্যকরী হবে না৷ এক্ষেত্রে ৯০ দিন এবং সন্তান ভূমিষ্ট হওয়ার মধ্যে যেদিনটি পরে হবে সেদিন থেকে তালাক কার্যকরী হবে৷ অর্থাৎ স্ত্রী গর্ভবতী হলে, কার্যকর হবে না৷ স্ত্রী তালাক দিলেও মোহরানার টাকা তাঁকে দিতে হবে এবং তালাক কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত ভরণপোষণ করতে হবে । তবে দাম্পত্য মিলন না ঘটলে এবং মোহরানা সুনির্দিষ্ট হয়ে থাকলে স্ত্রী মোহরানার অর্ধেকের অধিকারী। আর নির্ধারিত না থাকলে স্ত্রী তিনটি পোষাক উপহার পাবে। ১৯৩৯ আইনের ধারা নং ৫-এ স্পষ্টভাবে বলা আছে যে, এই আইনে অনত্মভর্ুক্ত কোন কিছুই কোন বিবাহিত নারীর বিয়ে-বিচ্ছেদের ফলে মুসলিম আইনানুসারে তার দেনমোহর বা এর কোন অংশের ওপর কোন অধিকারকেই প্রভাবিত করবে না। মূলত উপরোক্ত তিনটি উপায়ে একজন নারী বা স্ত্রী বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটাতে পারে । কিন্তু প্রায় সময় বাস্তবায়নে নারীদের নানা বাধা বিপত্তি ও ঝামেলা সম্মুখীন হতে হয় । এমনকি আপনজনদের সাহায্যসহযোগিতা পাওয়া যায় না ঐ সময় । এজন্যআমাদের সকলের দৃস্টিভঙ্গি ইতিবাচক হওয়া উচিৎ বা পরিবর্তন করা দরকার । আইনি সচেতনতা সৃষ্টি করে নারীদের প্রাপ্য ও ন্যায অধিকার বাস্তবায়নের সকলের এগিয়ে আসা উচিৎ ।
লেখক :-
ছাত্র, আইন বিভাগ, আন্তর্জাতিক
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্রগ্রাম।
mobile no: 01824100890
email: ll.braihan@gmail.com
ছাত্র, আইন বিভাগ, আন্তর্জাতিক
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্রগ্রাম।
mobile no: 01824100890
email: ll.braihan@gmail.com


