এম.আর.ওয়াজেদ চৌধুরী (রায়হান)
'মানব' এবং 'অধিকার' শব্দ দ্বয়ের সমস্টি হল "মানবাধিকার" ।
'মানব' শব্দটা অবশ্যই স্রষ্টিরসেরা জীব মানুষ কে বোঝাই
'অধিকার' হল,কিছু স্বার্থ কে যখন আইনগত বা নৈতিক নিয়ম নীতি দ্বারা সংরক্ষিত করা হয়।
"মানবাধিকার" হল, বস্তুত মানব পরিবারের সকল সদস্যদের জন্য সার্বজনীন, সহজাত, অহ-হস্তান্তর যোগ্য এবং অলংগনীয় অধিকার হলো মানবাধিকার ।
অন্য ভাবে বলতে গেলে, মানবাধিকার হল মানুষের সেই সব অপরিহার্য চাহিদা, যেগুলো মানুষের সার্বিক উন্নয়ন তথা বুদ্ধি ব্রত্তিক স্জনশীলতা,মর্যাদা ও ব্যক্তিত্বকে বিকশিত করে পরিপূর্ণ মানুষ হিসেবে সমাজে বাসযোগ করে তোলে । এবং যেগুলো ছাড়া জীবন পরিচালনা প্রায় অসম্ভব ।
বাংলাদেশ দীর্ঘ দিনের বহু ত্যাগ আর শত সংগ্রামের পটভূমির মধ্যে দিয়ে অবশেষে সশস্ত্র মুক্তিযুদ্বে লাখ প্রাণের বিনিময়ে আজ থেকে প্রায় চার দশক আগে স্বাধীন হয়েছিল ১৯৭১ সালের ১৬ডিসেম্বর।
কিন্তু অতীব দু:খের বিষয় তথা দূর্ভাগ্য জনক হলেও সত্য স্বাধীনতার তেয়াল্লিশ বছর পার হলেও, স্বাধীন সার্বভৌম এই দেশটিতে এখনো মানবাধিকারের বাণী নিরবে নিভৃতে কাদছে । যে অধিকার আদায়ের জন্য মুক্তিযুদ্ব হয়েছিল,সে অধিকারের আজো দেখা মিলেনি । বাংলাদেশের মানুষকে মানবাধিকারের জন্য সংগ্রাম করতে হচ্ছে প্রতিনিয়ত । প্রতি মূহুর্তে ঘটছে মানবাধিকারের সুস্পষ্ট লংঘন । সার্বিক অবস্থা দেখলে মনে হয় বাংলাদেশ আজ মানবাধিকার লংঘনের চারনভূমিতে পরিণত হয়েছে।
যদিও বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আইন পবিত্র সংবিধানের ১১ অনুচ্ছেদে গণতন্ত্র ও মানবাধিকারকে রাষ্ট্র পরিচালনার অন্যতম মূলনীতি হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে ।
সংবিধানের ৭ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, প্রজাতন্ত্রের সকল ক্ষমতার মালিক জনগণ।
সংবিধানের ১৫ অনুচ্ছেদে, রাষ্ট্রের
মৌলিক নীতিমালা সম্পর্কে সুস্পষ্ট ভাবে বলা আছে ।
সংবিধানের তৃতীয় ভাগে ২৬ থেকে ৪৭(ক) অনুচ্ছেদ পর্যন্ত নাগরিকদের মৌলিক অধিকরসমূহ সুবিন্যস্ত করা রয়েছে এবং অধিকারের প্রকৃতি ও ভোগের নিশ্চয়তা সম্পর্কে বর্ননা করা হয়েছে ।
শুধু তাই নয়, অনুচ্ছেদ ২৬ এ বলা হয়েছে, মৌলিক অধিকারের সহিত আসামঞ্জস পূর্ণ সকল আইন বাতিলের । মৌলিক অধিকার গুলো দেশের সর্বোচ্চ আইন ।
এছাড়াও জাতিসংঘ মানবাধিকার সনদ থেকে শুরু করে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক কনভেনশন এবং প্রচলিত আইনে বিভিন্নভাবে এই " মানবাধিকার " এর কথা সুস্পষ্ট করে বলা হলেও বাস্তবে তার দেখা মিলছে না ! এবং অদ্যাবধি সেসবের প্রকৃতার্থে কিছুই বাস্তবায়িত হয়নি।ঐ সমস্ত নীতিগুলোর বাস্তব প্রয়োগ কতটুকু দেখা যাচ্ছে তা নিম্নের ঘটনায় বোঝাই !
দুর্নীতি আর স্বজন প্রীতিতে পুরো দেশ আচ্ছন্ন হয়ে মানবাধিকার খুজে পাওয়া দুস্কর । সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারীদের সীমাহীন দুর্নীতির জবাবদিহিতা নাই কারো কাছে,চলছে লাগামহীন ঘোড়ার মতো। যার যেভাবে খুশি, যে উপায়ে যতটুকু সম্ভব শুধু খায় আর খায় ।ছোট থেকে বড় সাহেব সবই দুর্নীতিতে নিমজ্জিত । যদিও দেশে রয়েছে স্বাধীন "দুর্নীতি দমন কমিশন" কিন্তু সেটা শাসকগোস্ঠীর পদলেহনকারী বৈ আর কিছু নয় । অনেকেই বলে থাকেন ' দুদক দন্তহীন এক বাঘের নাম । সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারীদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি অভিযোগ তথা মামলার আগে নাকি সরকারের পূর্বানুমতি লাগবে ! অথচ সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারীদেরই দুর্নীতি করার সবচেয়ে বেশি সুযোগ থাকে এবং সমাজের এই অংশটাই দুর্নীতির সাথে অধিকতর সম্প্রিক্ত। আইন সকলের জন্য সমান হলেও এটা কোন ধরনের আইন বা মানবাধিকার ? তা বোঝে আসেনা জনগণের ।
মন্ত্রী এমপি রা তো দেশের মা-বাপ তথা রাজা- মহারাজা । তাদের আবার দুর্নীতি ! জবাবদিহিতা !
আন্ডার মেট্রিক হয়ে কোটি টাকায় নমিনেশন নিয়ে কোটি টাকা খরচ করে মন্ত্রী এমপি হওয়া কি সোজা কথা ? আইন প্রণয়নের বদলে আইন ঘিলে খাওয়া তারপর রাস্তা-নলকূপ-স্কুল প্রভৃতি উন্নয়নের ফিরিস্তি নিয়ে মহামান্য সংসদে হট্রগোল করে জনগণের ভোটের অধিকার আদায়করণ তারপর ........ অতপর আ্গুল ফুলে কলা গাছে মহীরূহ ধারণ তথা সম্পদের পরিমাণ কয়েকশগুনে গুনাণ্বিতকরণ !
চারদিকে আজ বিভৎস সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের যেন শেষ নেই । পুরোদমে এগিয়ে চলছে হত্যা-গুপ্তহত্যা- অপহরণ-গুম-খুন,এই যেন এক নৈমিত্তিক খবরের শিরোনাম যা না শুনলে দিন যায় না এমন অবস্থা।
বাংলাদেশ যেন লাশের উপর ভাসছে,
মস্তকবিহীন লাশ, জবাই করা লাশ, গলিত লাশ, মাথা থেঁতলানো লাশ , খন্ডিত লাশ, গুলিবিদ্ধ লাশ, বেনামী লাশ, কুড়িয়ে পাওয়া লাশ , পোড়ানো লাশ, বিল্ডিং ধসে লাশের স্তুপ,এক কথায় চরিদিকে লাশ আর লাশের লীলাখেলা চলতেছে ।
আগে গুটিকয়েক পারিবারিক সহিংসতার খবর আসতো খবরে। কিন্তু সেটা যেন আজকাল বটগাছে পরিণত হয়েছে । পুরো সমাজে তথা জাতির রন্ধ্রে রন্ধ্রে এই বটগাছের ছায়া বিস্তার । আর সেই গাছে শক্তি তথা বল জোগাচ্ছে রাজনীতির লীলাখেলা । প্রতিপক্ষ তথা বিরোধী রাজনৈতিক মতাআদর্শ মানেই সহজ সমাধান করে ফেলা অর্থাৎ গুম-অপহরণ-খুন- হত্যা- গুপ্তহত্যার মতো মহাঔষধ ব্যবহার করে দুনিয়া থেকে চিরতরে বিদায় । বিচার তো স্বপ্নের কথা হয়তোবা স্বজনরদের মিলবে না লাশ ।
নিউজ লিস্টে উঠে আসে দিন-দুপুরে , সবার সামনেই , পুলিশের পোশাক পরে , একের পর এক অভিনব কায়দায় চুরি , ছিনতাই ,ডাকাতির - চাঁদাবাজির ঘটনা । ধোকাবাজি আর প্রতারণা ব্যবসায় আবিষ্কার হচ্ছে নিত্য নতুন পদ্ধতি । লাখ টাকা নয় কোটি কোটি টাকা নিয়ে লাপাত্বা হচ্ছে বীরদর্পে।
সবক্ষেত্রে পুলিশ কার্যত ব্যর্থ। তথা কথিত তদন্ত করে ঘটনা উদঘাটনের বদলে প্রকৃত ঘটনার ধামাচাপা দেওয়া । তারপর সত্যমিথ্যার সংমিশ্রণে প্রতিবেদন তৈরি করে আদালতে জমা দিয়ে ন্যায় বিচার নিশ্চিত করণ । অতপর মানবাধিকারের সঠিক বাস্তবায়ন !
এভাবে গুম - খুন- হত্যা- গুপ্তহত্যা-চুরি--ছিনতাই-ডাকাতি- প্রতারণা করে পার পেয়ে যাচ্ছে অপরাধীরা। যা হচ্ছে আমাদের দেশের বাস্তবতা ।
দেশে এক নতুন মাত্রা , ভয়ঙ্কর সব রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের মাধ্যমে চলছে মানবাধিকারের সঠিক বাস্তবায়ন !
এক পক্ষ লাঠিসোটা, দেশীয় অস্ত্র নিয়ে বুক ফুলিয়ে সবই করতে পারছে । আরেক পক্ষের সর্বপ্রকার মিছিল মিটিং এক প্রকারের নিষিদ্ব। রাস্তায় মিছিল মিটিং দেখলেই অবলীলায় গুলি চালানো হচ্ছে ।
শীর্ষস্থানীয় রাজনৈতিক নেতা ব্যবসায়ী, আইনজীবী, সুশীল সমাজ ,বিভিন্ন উচ্চ পদস্থ পেশাজীবীদের ঠুনকো অজুহাতে নানাভাবে হয়রানি-মামলা-গ্রেপতার-রিমান্ড চলছেই একের পর নজীর স্থাপন করে । সরকার বিরোধী যেই কথা বলবে তাকেই এই ভাগ্য বরণ করতে হচ্ছে । রাজনৈতিক দমন-পীড়নের এহেন কোন ব্যবস্থা নাই যা প্রয়োগ হচ্ছে না।
সন্দেহভাজন গ্রেফতার বা শ্যোন অ্যারেস্ট করে থানায় আটকে রেখে মামলা সাজিয়ে আদালত হাজির করে রিমান্ডের আবেদন অতপর মন্জুর করে পুলিশ ও র্যবের বন্দিশালায় চলে পাশবিক নির্যাতন নিপীড়ন । আসামি দোষ-নির্দোষ তথা অপরাধী কিনা তা ভাবনার বিষয় পুলিশ কিংবা আদালত কেউ দেখার নয় এমন অবস্থা । এছাড়াও চলে নানাভাবে হয়রানি,তল্লাশি। আসামি ধরতে গিয়ে বাড়ীঘর তছনছ থেকে শুরু করে আসামির আত্মীয় স্বজনদের সাথে দুর্ব্যবহার প্রয়োজনে তাদেরকে গ্রেপ্তার এমনকি মহিলারা পর্যন্ত রেহাই পাচ্ছে না বর্তমানে । দেশের কোন কোন জায়গায় বাড়ি -ঘর পুড়িয়ে দেওয়া থেকে শুরু করে বুলডোজার দিয়ে ভেঙে দেওয়া হচ্ছে । প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার সব ব্যবস্থা প্রয়োগের যেন ধূম পড়েছে ।
পুলিশ - ডিবির পরিচয়ে গ্রেফতার পর হদিস মিলছে না । আত্নীয়স্বজন পরবর্তীতে থানায় যোগাযোগ করলে অস্বীকার করা হচ্ছে। হাইকোর্টে রিট করে নির্দেশ দেওয়া হলেও প্রিয়জনের কোন খবর পাওয়া যাচ্ছে না। চিরতরে হারিয়ে যাচ্ছে নয়তো কেউ কেউ লাশ পাচ্ছে ।
ক্রসফায়ার নামক বিচারবহির্ভূত হত্যার যেন মহাউৎসব চলছে দেশে ।
গ্রেফতার অভিযানে গুলি করে হত্যা করে ক্রসফায়ারে নিহত বলে প্রচার করা হচ্ছে । আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার পরিচয়ে অপহরণ বা নিখোঁজ অথবা গুলীবিদ্ধ লাশ উদ্ধার প্রতি ঘন্টার খবরে । বাংলাদেশের জানমালের
নিরাপত্তা সুদৃঢ় করার দায়িত্বে নিয়োজিত নিরাপত্তা বাহিনী কতটা নৃশংস, কতটা নির্মম- নির্দয় তা বলার ভাষা খুজে পাওয়া যাবে না।
আদালতের এমন অবস্থা, ন্যায় বিচার আজ মানুষ স্বপ্নেও ভাবে না । পুরো আইন ব্যবস্থাকে অতিমাত্রায় রাজনৈতিকভাবে ব্যবহারের ফলে মানুষ আজ আদালতের উপর আস্থা হারাতে বসেছে । এমনকি দেশের সর্বোচ্চ আদালতের বিচারকাজে অনেক ক্ষেত্রে মানবাধিকার লংঘন হচ্ছে। প্রকৃত অপরাধীদের পার করে দেওয়া, পক্ষপাত দুস্ট রায়ের অভিযোগ, মামলার দীর্ঘসূত্রতা ও জটিলতা তো লেগেই আছে। যাদের হাতে মৌলিক মানবাধিকার রক্ষার দায়িত্ব,তাদের হাতেই মানবাধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে বর্তমানে সবচেয়ে বেশী।
নারী নির্যাতনের অবস্থা দেখলে মনে হয় তার কোন সীমারেখা নেই । যৌতুক,পরকীয়ার বলি,ধর্ষণ, ইভটিজিং,খুন-হত্যা প্রতিদিন খবরের শিরোনাম হচ্ছে রকমারি কায়দায় । নারীঅধিকারের এমন করুন পরিণতি হয়েছে যে, সুপ্রিমকোর্টে মায়ের বয়সী নারী আইনজীবীকে বহিরাগত রাজনৈতিক দলের কর্মীরা সন্ত্রাসী কায়দায় বেদম পেটানো এমনকি বিবস্ত্র করার চেস্টা করলেও তথাকথিত নারীধিকারের ধ্ববজ্বাধারীরা নীরব দর্শক ।
আগামী দিনের দেশ গড়ার কারিগর দের কারখানা দিনের পর দিন বন্ধ । পুরো শিক্ষা ব্যবস্থা নানামুখী বিপর্যয়ের শিকার । বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সহিংসতায় একের পর এক মৃত্যু হচ্ছে মেধাবী ছাত্রের।
সংখ্যালঘুদের উপর বহুমাত্রিক নির্যাতন, ঘরবাড়ি থেকে উচ্ছেদ, পুড়ে দেয়া, জমি-জমা ব্যবসা ,দোকান পাট দখল লুটপাট চলছে নিয়মিত দেশের বিভিন্ন জায়গায়।
জাতির বিবেক বলে পরিচিত সংবাদপত্র ও সাংবাদিকদের দলন পীড়ন,হামলা-মামলার ঘটনা ঘটছে একের পর এক । ভিন্নমত তথা সরকার বিরোধী কোন প্রকার খবর কোনভাবেই সহ্য করা হচ্ছে না । প্রয়োজনে সাংবাদিকদের হামলা করবে ,মামলা দিবে ,গ্রেপ্তার করবে, অমানবিক নির্যাতন করবে , দুনিয়া থেকে চিরবিদায় করবে ,এমনকি নিজ বাসায় হত্যা করবে । তারপরেও না হলে মিডিয়া অফিস সীলগালা করে দিবে । সম্প্রচার বন্ধ করে দিবে। যার কারণে সত্যিকারের সাহসী তথা নিরপেক্ষ ও বস্তুনিস্ট সাংবাদিকতার বদলে দেশ আজ অপসাংবাদিকতার বেড়াজ্বালে গোটা মিডিয়া জগৎ আচ্ছন্ন হয়ে আছে ।
গণতান্ত্রিক রাস্ট্রের কথা বলা হলেও বাস্তবে লেশ মাত্র দেখা নেই । পুরো দেশ স্বৈরাচারে ভরপুর । একটা উদাহরণে বিষয়টি যেন স্পষ্ট, ১৫৩ আসনে জনগণ ভোট দিতে না পারা, আর ১৪৭ আসনে ভোটের নামে প্রহসনের নির্বাচনের নাটকে গণতন্ত্র খুবই সুন্দর করে ফুটে উঠেছে ।
চারদিকে আজ আতংকিত জীবন যাপন । ভয়, উৎকন্ঠা, উদ্বেগ আর হতাশজনিত নানা ঘটনার ব্যাপক
বিস্তৃতি দেশের সর্বত্র সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের জনপদে পরিণত
হয়েছে।যেকোনো মূহুর্তে গুলির আওয়াজ, ককটেল - বোমার বিস্ফোরণ, আহত-নিহত সংখার মাপকাঠিতে পরিমাপকরণ।
দেশে সড়ক দুর্ঘটনা নামক নতুন আরেক হত্যার লাইসেন্স খুব বেশি চলছে ইদানীং । হাজার কোটি টাকার প্রজেক্টের উপর প্রজেক্ট বাস্তবায়নের হিড়িক সড়ক জনপদে । কিন্তু লক্কর ঝক্কর, ভাঙা-জোড়তালি , এলোমেলো রাস্তা শেষ হয় না , দিনকে দিন বাড়তেছে আর বাড়তেছে। পাশাপাশি চলছে ট্রাফিক আইন যথাযথ অপ্রপ্রয়োগ । নিরাপদে সড়ক যাত্রার স্থলে নির্ঘাত মরণযাত্রা। নিজ হাতে পিতা-মাতা ,ভাই, সন্তান -স্ত্রী কে খুন জখম হত্যা প্রভৃতি সামাজিক অবক্ষয় ও অনৈতিক চরিত্রস্খলনজনিত কর্মকান্ড সমাজ প্রতিনিয়ত বিভৎস্য রূপে চিত্রায়িত হয়ে সভ্য এবং ভদ্র সমাজের পরিবেশ একরকম ধ্বংস প্রায়।
এক কথায়, সারাদেশ যেন এক মৃত্যুপুরী !
হাজারো "মানবাধিকার" লংঘন আমাদের দেশে শুধু নিত্যনৈমিত্তিক নয় প্রতি মূহুর্তের ঘটনায় পরিণত হয়েছে। সব মিলিয়ে বলতে গেলে, "মানবাধিকার" লংঘনের এক চরম স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়েছে বাংলাদেশ !
লেখক :- আইন বিভাগের ছাত্র, আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্রগ্রাম ।
email :- ll.braihan@gmail.com
'মানব' এবং 'অধিকার' শব্দ দ্বয়ের সমস্টি হল "মানবাধিকার" ।
'মানব' শব্দটা অবশ্যই স্রষ্টিরসেরা জীব মানুষ কে বোঝাই
'অধিকার' হল,কিছু স্বার্থ কে যখন আইনগত বা নৈতিক নিয়ম নীতি দ্বারা সংরক্ষিত করা হয়।
"মানবাধিকার" হল, বস্তুত মানব পরিবারের সকল সদস্যদের জন্য সার্বজনীন, সহজাত, অহ-হস্তান্তর যোগ্য এবং অলংগনীয় অধিকার হলো মানবাধিকার ।
অন্য ভাবে বলতে গেলে, মানবাধিকার হল মানুষের সেই সব অপরিহার্য চাহিদা, যেগুলো মানুষের সার্বিক উন্নয়ন তথা বুদ্ধি ব্রত্তিক স্জনশীলতা,মর্যাদা ও ব্যক্তিত্বকে বিকশিত করে পরিপূর্ণ মানুষ হিসেবে সমাজে বাসযোগ করে তোলে । এবং যেগুলো ছাড়া জীবন পরিচালনা প্রায় অসম্ভব ।
বাংলাদেশ দীর্ঘ দিনের বহু ত্যাগ আর শত সংগ্রামের পটভূমির মধ্যে দিয়ে অবশেষে সশস্ত্র মুক্তিযুদ্বে লাখ প্রাণের বিনিময়ে আজ থেকে প্রায় চার দশক আগে স্বাধীন হয়েছিল ১৯৭১ সালের ১৬ডিসেম্বর।
কিন্তু অতীব দু:খের বিষয় তথা দূর্ভাগ্য জনক হলেও সত্য স্বাধীনতার তেয়াল্লিশ বছর পার হলেও, স্বাধীন সার্বভৌম এই দেশটিতে এখনো মানবাধিকারের বাণী নিরবে নিভৃতে কাদছে । যে অধিকার আদায়ের জন্য মুক্তিযুদ্ব হয়েছিল,সে অধিকারের আজো দেখা মিলেনি । বাংলাদেশের মানুষকে মানবাধিকারের জন্য সংগ্রাম করতে হচ্ছে প্রতিনিয়ত । প্রতি মূহুর্তে ঘটছে মানবাধিকারের সুস্পষ্ট লংঘন । সার্বিক অবস্থা দেখলে মনে হয় বাংলাদেশ আজ মানবাধিকার লংঘনের চারনভূমিতে পরিণত হয়েছে।
যদিও বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আইন পবিত্র সংবিধানের ১১ অনুচ্ছেদে গণতন্ত্র ও মানবাধিকারকে রাষ্ট্র পরিচালনার অন্যতম মূলনীতি হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে ।
সংবিধানের ৭ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, প্রজাতন্ত্রের সকল ক্ষমতার মালিক জনগণ।
সংবিধানের ১৫ অনুচ্ছেদে, রাষ্ট্রের
মৌলিক নীতিমালা সম্পর্কে সুস্পষ্ট ভাবে বলা আছে ।
সংবিধানের তৃতীয় ভাগে ২৬ থেকে ৪৭(ক) অনুচ্ছেদ পর্যন্ত নাগরিকদের মৌলিক অধিকরসমূহ সুবিন্যস্ত করা রয়েছে এবং অধিকারের প্রকৃতি ও ভোগের নিশ্চয়তা সম্পর্কে বর্ননা করা হয়েছে ।
শুধু তাই নয়, অনুচ্ছেদ ২৬ এ বলা হয়েছে, মৌলিক অধিকারের সহিত আসামঞ্জস পূর্ণ সকল আইন বাতিলের । মৌলিক অধিকার গুলো দেশের সর্বোচ্চ আইন ।
এছাড়াও জাতিসংঘ মানবাধিকার সনদ থেকে শুরু করে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক কনভেনশন এবং প্রচলিত আইনে বিভিন্নভাবে এই " মানবাধিকার " এর কথা সুস্পষ্ট করে বলা হলেও বাস্তবে তার দেখা মিলছে না ! এবং অদ্যাবধি সেসবের প্রকৃতার্থে কিছুই বাস্তবায়িত হয়নি।ঐ সমস্ত নীতিগুলোর বাস্তব প্রয়োগ কতটুকু দেখা যাচ্ছে তা নিম্নের ঘটনায় বোঝাই !
দুর্নীতি আর স্বজন প্রীতিতে পুরো দেশ আচ্ছন্ন হয়ে মানবাধিকার খুজে পাওয়া দুস্কর । সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারীদের সীমাহীন দুর্নীতির জবাবদিহিতা নাই কারো কাছে,চলছে লাগামহীন ঘোড়ার মতো। যার যেভাবে খুশি, যে উপায়ে যতটুকু সম্ভব শুধু খায় আর খায় ।ছোট থেকে বড় সাহেব সবই দুর্নীতিতে নিমজ্জিত । যদিও দেশে রয়েছে স্বাধীন "দুর্নীতি দমন কমিশন" কিন্তু সেটা শাসকগোস্ঠীর পদলেহনকারী বৈ আর কিছু নয় । অনেকেই বলে থাকেন ' দুদক দন্তহীন এক বাঘের নাম । সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারীদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি অভিযোগ তথা মামলার আগে নাকি সরকারের পূর্বানুমতি লাগবে ! অথচ সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারীদেরই দুর্নীতি করার সবচেয়ে বেশি সুযোগ থাকে এবং সমাজের এই অংশটাই দুর্নীতির সাথে অধিকতর সম্প্রিক্ত। আইন সকলের জন্য সমান হলেও এটা কোন ধরনের আইন বা মানবাধিকার ? তা বোঝে আসেনা জনগণের ।
মন্ত্রী এমপি রা তো দেশের মা-বাপ তথা রাজা- মহারাজা । তাদের আবার দুর্নীতি ! জবাবদিহিতা !
আন্ডার মেট্রিক হয়ে কোটি টাকায় নমিনেশন নিয়ে কোটি টাকা খরচ করে মন্ত্রী এমপি হওয়া কি সোজা কথা ? আইন প্রণয়নের বদলে আইন ঘিলে খাওয়া তারপর রাস্তা-নলকূপ-স্কুল প্রভৃতি উন্নয়নের ফিরিস্তি নিয়ে মহামান্য সংসদে হট্রগোল করে জনগণের ভোটের অধিকার আদায়করণ তারপর ........ অতপর আ্গুল ফুলে কলা গাছে মহীরূহ ধারণ তথা সম্পদের পরিমাণ কয়েকশগুনে গুনাণ্বিতকরণ !
চারদিকে আজ বিভৎস সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের যেন শেষ নেই । পুরোদমে এগিয়ে চলছে হত্যা-গুপ্তহত্যা- অপহরণ-গুম-খুন,এই যেন এক নৈমিত্তিক খবরের শিরোনাম যা না শুনলে দিন যায় না এমন অবস্থা।
বাংলাদেশ যেন লাশের উপর ভাসছে,
মস্তকবিহীন লাশ, জবাই করা লাশ, গলিত লাশ, মাথা থেঁতলানো লাশ , খন্ডিত লাশ, গুলিবিদ্ধ লাশ, বেনামী লাশ, কুড়িয়ে পাওয়া লাশ , পোড়ানো লাশ, বিল্ডিং ধসে লাশের স্তুপ,এক কথায় চরিদিকে লাশ আর লাশের লীলাখেলা চলতেছে ।
আগে গুটিকয়েক পারিবারিক সহিংসতার খবর আসতো খবরে। কিন্তু সেটা যেন আজকাল বটগাছে পরিণত হয়েছে । পুরো সমাজে তথা জাতির রন্ধ্রে রন্ধ্রে এই বটগাছের ছায়া বিস্তার । আর সেই গাছে শক্তি তথা বল জোগাচ্ছে রাজনীতির লীলাখেলা । প্রতিপক্ষ তথা বিরোধী রাজনৈতিক মতাআদর্শ মানেই সহজ সমাধান করে ফেলা অর্থাৎ গুম-অপহরণ-খুন- হত্যা- গুপ্তহত্যার মতো মহাঔষধ ব্যবহার করে দুনিয়া থেকে চিরতরে বিদায় । বিচার তো স্বপ্নের কথা হয়তোবা স্বজনরদের মিলবে না লাশ ।
নিউজ লিস্টে উঠে আসে দিন-দুপুরে , সবার সামনেই , পুলিশের পোশাক পরে , একের পর এক অভিনব কায়দায় চুরি , ছিনতাই ,ডাকাতির - চাঁদাবাজির ঘটনা । ধোকাবাজি আর প্রতারণা ব্যবসায় আবিষ্কার হচ্ছে নিত্য নতুন পদ্ধতি । লাখ টাকা নয় কোটি কোটি টাকা নিয়ে লাপাত্বা হচ্ছে বীরদর্পে।
সবক্ষেত্রে পুলিশ কার্যত ব্যর্থ। তথা কথিত তদন্ত করে ঘটনা উদঘাটনের বদলে প্রকৃত ঘটনার ধামাচাপা দেওয়া । তারপর সত্যমিথ্যার সংমিশ্রণে প্রতিবেদন তৈরি করে আদালতে জমা দিয়ে ন্যায় বিচার নিশ্চিত করণ । অতপর মানবাধিকারের সঠিক বাস্তবায়ন !
এভাবে গুম - খুন- হত্যা- গুপ্তহত্যা-চুরি--ছিনতাই-ডাকাতি- প্রতারণা করে পার পেয়ে যাচ্ছে অপরাধীরা। যা হচ্ছে আমাদের দেশের বাস্তবতা ।
দেশে এক নতুন মাত্রা , ভয়ঙ্কর সব রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের মাধ্যমে চলছে মানবাধিকারের সঠিক বাস্তবায়ন !
এক পক্ষ লাঠিসোটা, দেশীয় অস্ত্র নিয়ে বুক ফুলিয়ে সবই করতে পারছে । আরেক পক্ষের সর্বপ্রকার মিছিল মিটিং এক প্রকারের নিষিদ্ব। রাস্তায় মিছিল মিটিং দেখলেই অবলীলায় গুলি চালানো হচ্ছে ।
শীর্ষস্থানীয় রাজনৈতিক নেতা ব্যবসায়ী, আইনজীবী, সুশীল সমাজ ,বিভিন্ন উচ্চ পদস্থ পেশাজীবীদের ঠুনকো অজুহাতে নানাভাবে হয়রানি-মামলা-গ্রেপতার-রিমান্ড চলছেই একের পর নজীর স্থাপন করে । সরকার বিরোধী যেই কথা বলবে তাকেই এই ভাগ্য বরণ করতে হচ্ছে । রাজনৈতিক দমন-পীড়নের এহেন কোন ব্যবস্থা নাই যা প্রয়োগ হচ্ছে না।
সন্দেহভাজন গ্রেফতার বা শ্যোন অ্যারেস্ট করে থানায় আটকে রেখে মামলা সাজিয়ে আদালত হাজির করে রিমান্ডের আবেদন অতপর মন্জুর করে পুলিশ ও র্যবের বন্দিশালায় চলে পাশবিক নির্যাতন নিপীড়ন । আসামি দোষ-নির্দোষ তথা অপরাধী কিনা তা ভাবনার বিষয় পুলিশ কিংবা আদালত কেউ দেখার নয় এমন অবস্থা । এছাড়াও চলে নানাভাবে হয়রানি,তল্লাশি। আসামি ধরতে গিয়ে বাড়ীঘর তছনছ থেকে শুরু করে আসামির আত্মীয় স্বজনদের সাথে দুর্ব্যবহার প্রয়োজনে তাদেরকে গ্রেপ্তার এমনকি মহিলারা পর্যন্ত রেহাই পাচ্ছে না বর্তমানে । দেশের কোন কোন জায়গায় বাড়ি -ঘর পুড়িয়ে দেওয়া থেকে শুরু করে বুলডোজার দিয়ে ভেঙে দেওয়া হচ্ছে । প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার সব ব্যবস্থা প্রয়োগের যেন ধূম পড়েছে ।
পুলিশ - ডিবির পরিচয়ে গ্রেফতার পর হদিস মিলছে না । আত্নীয়স্বজন পরবর্তীতে থানায় যোগাযোগ করলে অস্বীকার করা হচ্ছে। হাইকোর্টে রিট করে নির্দেশ দেওয়া হলেও প্রিয়জনের কোন খবর পাওয়া যাচ্ছে না। চিরতরে হারিয়ে যাচ্ছে নয়তো কেউ কেউ লাশ পাচ্ছে ।
ক্রসফায়ার নামক বিচারবহির্ভূত হত্যার যেন মহাউৎসব চলছে দেশে ।
গ্রেফতার অভিযানে গুলি করে হত্যা করে ক্রসফায়ারে নিহত বলে প্রচার করা হচ্ছে । আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার পরিচয়ে অপহরণ বা নিখোঁজ অথবা গুলীবিদ্ধ লাশ উদ্ধার প্রতি ঘন্টার খবরে । বাংলাদেশের জানমালের
নিরাপত্তা সুদৃঢ় করার দায়িত্বে নিয়োজিত নিরাপত্তা বাহিনী কতটা নৃশংস, কতটা নির্মম- নির্দয় তা বলার ভাষা খুজে পাওয়া যাবে না।
আদালতের এমন অবস্থা, ন্যায় বিচার আজ মানুষ স্বপ্নেও ভাবে না । পুরো আইন ব্যবস্থাকে অতিমাত্রায় রাজনৈতিকভাবে ব্যবহারের ফলে মানুষ আজ আদালতের উপর আস্থা হারাতে বসেছে । এমনকি দেশের সর্বোচ্চ আদালতের বিচারকাজে অনেক ক্ষেত্রে মানবাধিকার লংঘন হচ্ছে। প্রকৃত অপরাধীদের পার করে দেওয়া, পক্ষপাত দুস্ট রায়ের অভিযোগ, মামলার দীর্ঘসূত্রতা ও জটিলতা তো লেগেই আছে। যাদের হাতে মৌলিক মানবাধিকার রক্ষার দায়িত্ব,তাদের হাতেই মানবাধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে বর্তমানে সবচেয়ে বেশী।
নারী নির্যাতনের অবস্থা দেখলে মনে হয় তার কোন সীমারেখা নেই । যৌতুক,পরকীয়ার বলি,ধর্ষণ, ইভটিজিং,খুন-হত্যা প্রতিদিন খবরের শিরোনাম হচ্ছে রকমারি কায়দায় । নারীঅধিকারের এমন করুন পরিণতি হয়েছে যে, সুপ্রিমকোর্টে মায়ের বয়সী নারী আইনজীবীকে বহিরাগত রাজনৈতিক দলের কর্মীরা সন্ত্রাসী কায়দায় বেদম পেটানো এমনকি বিবস্ত্র করার চেস্টা করলেও তথাকথিত নারীধিকারের ধ্ববজ্বাধারীরা নীরব দর্শক ।
আগামী দিনের দেশ গড়ার কারিগর দের কারখানা দিনের পর দিন বন্ধ । পুরো শিক্ষা ব্যবস্থা নানামুখী বিপর্যয়ের শিকার । বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সহিংসতায় একের পর এক মৃত্যু হচ্ছে মেধাবী ছাত্রের।
সংখ্যালঘুদের উপর বহুমাত্রিক নির্যাতন, ঘরবাড়ি থেকে উচ্ছেদ, পুড়ে দেয়া, জমি-জমা ব্যবসা ,দোকান পাট দখল লুটপাট চলছে নিয়মিত দেশের বিভিন্ন জায়গায়।
জাতির বিবেক বলে পরিচিত সংবাদপত্র ও সাংবাদিকদের দলন পীড়ন,হামলা-মামলার ঘটনা ঘটছে একের পর এক । ভিন্নমত তথা সরকার বিরোধী কোন প্রকার খবর কোনভাবেই সহ্য করা হচ্ছে না । প্রয়োজনে সাংবাদিকদের হামলা করবে ,মামলা দিবে ,গ্রেপ্তার করবে, অমানবিক নির্যাতন করবে , দুনিয়া থেকে চিরবিদায় করবে ,এমনকি নিজ বাসায় হত্যা করবে । তারপরেও না হলে মিডিয়া অফিস সীলগালা করে দিবে । সম্প্রচার বন্ধ করে দিবে। যার কারণে সত্যিকারের সাহসী তথা নিরপেক্ষ ও বস্তুনিস্ট সাংবাদিকতার বদলে দেশ আজ অপসাংবাদিকতার বেড়াজ্বালে গোটা মিডিয়া জগৎ আচ্ছন্ন হয়ে আছে ।
গণতান্ত্রিক রাস্ট্রের কথা বলা হলেও বাস্তবে লেশ মাত্র দেখা নেই । পুরো দেশ স্বৈরাচারে ভরপুর । একটা উদাহরণে বিষয়টি যেন স্পষ্ট, ১৫৩ আসনে জনগণ ভোট দিতে না পারা, আর ১৪৭ আসনে ভোটের নামে প্রহসনের নির্বাচনের নাটকে গণতন্ত্র খুবই সুন্দর করে ফুটে উঠেছে ।
চারদিকে আজ আতংকিত জীবন যাপন । ভয়, উৎকন্ঠা, উদ্বেগ আর হতাশজনিত নানা ঘটনার ব্যাপক
বিস্তৃতি দেশের সর্বত্র সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের জনপদে পরিণত
হয়েছে।যেকোনো মূহুর্তে গুলির আওয়াজ, ককটেল - বোমার বিস্ফোরণ, আহত-নিহত সংখার মাপকাঠিতে পরিমাপকরণ।
দেশে সড়ক দুর্ঘটনা নামক নতুন আরেক হত্যার লাইসেন্স খুব বেশি চলছে ইদানীং । হাজার কোটি টাকার প্রজেক্টের উপর প্রজেক্ট বাস্তবায়নের হিড়িক সড়ক জনপদে । কিন্তু লক্কর ঝক্কর, ভাঙা-জোড়তালি , এলোমেলো রাস্তা শেষ হয় না , দিনকে দিন বাড়তেছে আর বাড়তেছে। পাশাপাশি চলছে ট্রাফিক আইন যথাযথ অপ্রপ্রয়োগ । নিরাপদে সড়ক যাত্রার স্থলে নির্ঘাত মরণযাত্রা। নিজ হাতে পিতা-মাতা ,ভাই, সন্তান -স্ত্রী কে খুন জখম হত্যা প্রভৃতি সামাজিক অবক্ষয় ও অনৈতিক চরিত্রস্খলনজনিত কর্মকান্ড সমাজ প্রতিনিয়ত বিভৎস্য রূপে চিত্রায়িত হয়ে সভ্য এবং ভদ্র সমাজের পরিবেশ একরকম ধ্বংস প্রায়।
এক কথায়, সারাদেশ যেন এক মৃত্যুপুরী !
হাজারো "মানবাধিকার" লংঘন আমাদের দেশে শুধু নিত্যনৈমিত্তিক নয় প্রতি মূহুর্তের ঘটনায় পরিণত হয়েছে। সব মিলিয়ে বলতে গেলে, "মানবাধিকার" লংঘনের এক চরম স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়েছে বাংলাদেশ !
লেখক :- আইন বিভাগের ছাত্র, আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্রগ্রাম ।
email :- ll.braihan@gmail.com

