The more you Read ,The more you Learn

সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২০

ভূমির বিভিন্ন খতিয়ান চেনার উপায়

খতিয়ান হলো একটি লিখিত দলিল যেটি ভূমি জরীপ সম্পন্ন করার পর প্রস্তুত করা হয়। একটি খতিয়ানে নির্দিষ্ট কোন জমির মালিক কে, তার ভূমির পরিমাণ কত অংশ ইত্যাদি বিষয়গুলি লিপিবদ্ধ থাকে। সাধারণভাবে স্বত্ব সংরক্ষণ ও রাজস্ব আদায়ের উদ্দেশ্যে জরীপ বিভাগ কর্তৃক প্রত্যেক মৌজার ভূমির মালিক বা মালিকগণের নাম, পিতা অথবা স্বামীর নাম, ঠিকানা, হিস্যা (অংশ) এবং তাদের স্বত্বাধীন দাগসমূহের নম্বরসহ ভূমির পরিমাণ, শ্রেণি, এদের জন্য দেয়া খাজনা ইত্যাদি বিবরণসহ ক্রমিক সংখ্যা অনুসারে যে স্বত্ব তালিকা বা স্বত্বের রেকর্ড প্রস্তুত করা হয়।যে সকল আইনজীবী দেওয়ানী মোকদ্দমা পরিচালনা করতে ইচ্ছুক এবং ব্যাংকিং প্রাকটিস করতে আগ্রহী তাদের জন্য জমির খতিয়ান চেনা আবশ্যকীয় একটি বিষয়। শুধু আইনজীবীদের জন্যই খতিয়ান চেনা জরুরী নয় বরং সকল মানুষের জন্য খতিয়ান চেনাটা খুবই জরুরী। কারণ আমাদের প্রত্যেকের কিছু না কিছু ভূমি আছে। ভূমি নিয়ে বিরোধ সবচেয়ে বেশি দেখা যায় আমাদের সভ্য সমাজে। তাই নিজের ভূমি সম্পর্কে যথাযথ জ্ঞান রাখা প্রত্যেকের জন্য অপরিহার্য্য। খতিয়ানের গায়ে খতিয়ানের নাম লেখা থাকে না। যার কারণে খতিয়ান চেনাটা আমাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়ে। খতিয়ান চেনার বিষয়টি ধারাবাহিকভাবে আলোচনা করা হবে যাতে করে একজন খুব সহজেই খতিয়ান চিনতে পারেন।

বাংলাদেশে ভূমির খতিয়ানের প্রকার বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ৪ ধরনের খতিয়ান রয়েছে। যথা – (১) সি,এস খতিয়ান, (২) এস, এ খতিয়ান (৩) আর, এস খতিয়ান, (৪) বি, এস খতিয়ান/ সিটি জরিপ। (১) সি, এস/ CS খতিয়ানঃ সিএস খতিয়ান-এর পূর্ণরূপ- Cadastral Survey. ব্রিটিশ শাসনামলে ১৯৪০ সালে সরকার জরিপের মাধ্যমে যে খতিয়ান প্রস্তত করেন তাকে সি, এস খতিয়ান বলে ।

 

সি, এস/ CS খতিয়ান চেনার উপায়

১. এটা উপর থেকে নিচে লম্বালম্বি ভাবে থাকবে,

২. এপিট ওপিট উভয় পৃষ্ঠায় হবে,

৩. প্রথম পৃষ্ঠায় জমিদার এবং প্রজার নামে দুইটা ভাগ থাকবে,

৪. সবার উপরে লেখা থাকবে “ বাংলাদেশ ফরম নং ৫৪৬৩” (এটা সব ফরমে একই থাকবে),

৫. অপর পৃষ্ঠায় “উত্তর সীমানা” নামে একটা কলাম থাকবে।

(২) এস, এ/ SA খতিয়ানঃ এস, এ খতিয়ান-এর পূর্ণরূপ- State Acquisition খতিয়ান
১৯৫০ সালের রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইনের ২৭ হতে ৩১ ধারা অনুযায়ী ১৯৫৬-৬০ সালে যে খতিয়ান প্রস্তুত করা হয় তাকে এস,এ (State Acquision) খতিয়ান বলে।

 

এস, এ/ SA খতিয়ান চেনার উপায়

১. এই খতিয়ান সবসময় আড়াআড়ি ভাবে হয়,

২. এইটা সবসময় হাতে লিখা হয়(প্রিন্ট হবেনা),

৩. এই খতিয়ানে সাবেক খতিয়ানের (CS) এবং হাল নম্বরটা থাকবে,

৪. এইটা এক পৃষ্ঠায় হবে।

(৩) আর,এস/ RS খতিয়ানঃ আর,এস খতিয়ান এর পূর্ণরূপ হলো-Revisional Survey {RS খতিয়ান তৈরি হয় এসএ খতিয়ানের অধীনে}

এই আইনের ১৪৪ধারা অনুযায়ী বাংলাদেশ সরকার খতিয়ান প্রস্তুত করার উদ্যোগ নেন এরূপ খতিয়ানকে বলা হয় আর,এস খতিয়ান(Renisional Survey)।

 

আর,এস/ RS খতিয়ান চেনার উপায়

১. ফরম এর সবার উপরে হাতের ডান পাশে লেখা থাকবে “রেসার্তে নং”,

২. আগে সাধারনত ২ পৃষ্ঠায় হত, এখন এই খতিয়ান ১ পৃষ্ঠায় হয়,

৩. এটাও উপর থেকে নিচে লম্বালম্বি ভাবে হয়।

(৪) বি,এস খতিয়ান/ সিটি জরিপঃ ১৯৯৮-৯৯ সাল হতে বর্তমানে চলমান জরিপকে বি, এস খতিয়ান বা সিটি জরিপ বলে। যাহা এখনো চলমান ।

 

বি,এস খতিয়ান/ City Survey খতিয়ান চেনার উপায়

১. এই খতিয়ানে ৯ টা কলাম থাকবে,

২. এতে আরো বলা থাকবে কি ধরনের জমি নিয়ে খতিয়ানটা(যেমনঃ নাল জমি, পুকুর)।


 

নামজারি/ Mutation খতিয়ান চেনার উপায়

এই খতিয়ানের বাম পাশে হাতে লেখা থাকবে “নামজারি”।

 

খতিয়ান অন্তর্ভুক্ত বিষয়সমূহ

খতিয়ানে কি কি বিষয় অন্তর্ভুক্ত করতে হবে সে সম্পর্কে রাষ্ট্রীয় অর্জন বিধিমালার ১৮ নম্বর বিধিতে বিবৃত হয়েছে। এ বিধি অনুযায়ী নিম্নলিখিত বিবরণসমূহ অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

(ক)প্রজা বা দখলদারের নাম, পিতার নাম ও ঠিকানা।
(খ)প্রজা বা দখলদার কোন শ্রেণীল অন্তর্ভুক্ত ।
(গ)প্রজা বা দখলদর কর্তৃক জমির অবস্থান শ্রেণী, পরিমান ও সীমানা।
(ঘ)প্রজার জমির মালিকের নাম, পিতার নাম ও ঠিকানা।
(ঙ)এস্টেটের মালিকের নাম, পিতার নাম ও ঠিকানা।
(চ)খতিয়ান প্রস্তুতের সময় খাজনা এবং ২৮,২৯,৩০ বিধি মোতাবেক নির্ধারিত খাজনা।গোচরণ ভূমি, বনভূমি ও মৎস খামারের জন্য ধারণকৃত অর্থ।
(জ)যে পদ্ধতিতে খাজনা ধার্য করা হয়েছে তার বিবরণ ।
(ঝ)যদি খাজনা ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পেতে থাকে তাহলে যে সময়ে ও যে যে পদক্ষেপে বৃদ্ধি পায় তার বিবরণ ।
(ঞ)কৃষি কাজের উদ্দেশ্যে প্রজা কর্তৃক পানির ব্যবহার এবং পানি সরবরাহের জন্য যন্ত্রপাতি সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষেণ সম্পর্কিত প্রজা ও জমির মালিকের মধ্যে অধিকার ও কর্তব্যের বিবরণ।
(ট)প্রজাস্বত্ব সম্পর্কিত বিশেষ শর্ত ও তার পরিনতি ।
(ঠ)পখ চলার অধিকার ও জমির সংলগ্ন অন্যান্য ইজমেন্টের অধিকার।
(ড)নিজস্ব জিম হলে তার বিবরণ ।
(ঢ)২৬নং ধারা অনুযায়ী নির্ধারিত ও ন্যায়সঙ্গত খাজনা।

এছাড়া একটি খতিয়ানে তার নিজস্ব খতিয়ান নম্বর, দাগ নম্বর, বাট্টা নম্বর, এরিয়া নম্বর, মৌজা নম্বর ও জে, এল, নম্বর থাকে।



লেবেল

ফৌজদারী দেওয়ানী টিপস দন্ডবিধি জুডিশিয়ারী অ্যাডভোকেটশীপ সাহিত্য - সংস্কৃতি আইনজীবী ইতিহাস ফৌজদারি কার্যবিধি রাজনীতি সম্পত্তি হস্তান্তর আইন অধিকার সংবিধান সফল জীবনী সুনিদিষ্ট প্রতিকার আইন Islam দেওয়ানী কার্যবিধি ধর্ম Civil Tips religion বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি চুক্তি আইন নারী ও শিশু নির্যাতন সাইবার ক্রাইম CONTRACT LAW আইন পেশায় টিকে থাকার লড়াই কোম্পানী আইন জিয়াউর রহমান তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইন দলিল পারিবারিক ফৌজদারি বিএনপি মানবাধিকার যুগান্তকারী রায় যৌতুক নিরোধ আইন ২০১৮ সাক্ষ্য আইন হাইকোর্টে মামলা Advocate Dress Income tax Lawyer Dress Stop vat on Education অ্যাডমিরাল মাহবুব আবহাওয়া আল্লামা ইকবাল ইয়াকুব মেমন এনআই অ্যাক্ট খাজা সলিমুল্লাহ গ্রেপ্তার চুরি চেক ডিজঅনার জাতীয় পতাকা বিধিমালা জাতীয় মানবাধিকার কমিশন জামিন জেনারেল জিয়াউর রহমান নবাব পশু জবাই আইন পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট ফরেনার্স অ্যাক্ট বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ বাংলাদেশ বার কাউন্সিল বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতিগণ বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা বিচারপতি সৈয়দ রিফাত আহমেদ বিশেষ ক্ষমতা আইন ব্যারিস্টার ইশতিয়াক আহমেদ ব্যারিস্টার রফিক-উল হক মাংসের মান নিয়ন্ত্রণ আইন মোবাইল কোর্ট রায়তী স্বত্বীয় খাস দখলী" বাক্যটির অর্থ কি রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান শহীদ প্রেসিডেন্ট হাইকোর্ট হিন্দু উত্তরাধিকার আইন