১৯৭০ সালের ঘূর্ণিঝড়ের পর সাতক্ষীরার হাঁড়িভাঙ্গা নদীর মোহনায় বাংলাদেশের সমুদ্রসীমায় জেগে ওঠে দক্ষিণ তালপট্টি দ্বীপ। দ্বীপটির আয়তন ক্রমে বৃদ্ধি পেতে থাকে এবং এক পর্যায়ে আয়তন প্রায় ১০ হাজার বর্গমিটারে দাঁড়ায়। বিশাল দ্বীপটির দিকে হারতের লোলুপ নজর পড়ে।
বেহায়া হারত দ্বীপটির মালিকানা দাবি করতে থাকে। ১৯৭৯ সালে প্রেসিডেন্ট জিয়া হারতে উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি প্রেরণ করেন। দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী পর্যায়ের আলোচনা ব্যার্থ হয়। ডেসপারেট জিয়া নিজেই হারতে যান। এ আলোচনাও ব্যার্থ হয়। সকল কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ব্যার্থ হয়। উত্তেজনা বাড়তে থাকে।
১৯৮০ সালের ২০ ডিসেম্বর ভারতের তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী (পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী) নরসীমা রাও ঘোষণা করেন- হারতই দক্ষিণ তালপট্টি দ্বীপের মালিক। জিয়া ক্ষিপ্ত হন। ৩০ ডিসেম্বর জিয়া সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শামসুল হক জাতীয় সংসদে ঘোষণা করেন, বাংলাদেশই দক্ষিণ তালপট্টি দ্বীপের মালিক।
১৯৮১ সালের ১১ মে হারত “আইএসএন সন্ধায়ক” নামক যুদ্ধ জাহাজ পাঠিয়ে দ্বীপটি দখল করে নেয়। ২ দিন পর, ১৩ মে জিয়ার আদেশে রিয়ার অ্যাডমিরাল মাহবুব আলী খান নৌ জাহাজ “বিএনএস উমর ফারুক” নিয়ে গুলি ছুঁড়তে ছুঁড়তে তালপট্টিতে উপস্থিত হন এবং তালপট্টি ভারতীয় দখলমুক্ত করেন।
এর মাত্র দুই সপ্তাহ পর দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেতা রাষ্ট্রপতি জিয়া নিহত হন। তারপরে কী হয়েছে তা সবার জানা। যেটা আলোচিত হয়নি তা হলো- ঐ ঘটনার ৩ বছর পর মাহবুব আলী খানও রহস্যজনকভাবে মারা যান। তখন ব্যাপক গুঞ্জন সৃষ্টি হলে তাঁর মৃত্যুরহস্য উদঘাটনে একটি কমিটি গঠিত হয়।
মাহবুব আলী খানের মৃত্যুরহস্য উদঘাটন কমিটি কখনই কোনো প্রতিবেদন প্রকাশ করেনি। অতঃপর পদ্মা-যমুনা দিয়ে বহু পানি গড়িয়েছে। সকল দলের সরকার এসেছে-গেছে। কিন্তু দেশের সেরা দুই সন্তান জিয়া আর মাহবুব হত্যার কোনো বিচার হয়নি। আর, আমরা হারতের প্রেমে (দাসত্বে) হাবুডুবু খাচ্ছি।
ভালকথা, ২০১৪ সালের ৭ জুলাই আন্তর্জাতিক আদালতের রায়ে হারত ঐ দ্বীপের পুরো মালিকানা অর্জন করেছিল। কিন্তু এদিকে আমরা ঢোল-তবলা বাজিয়ে, নেচে-গেয়ে “সমুদ্র মহাবিজয়” উদযাপন করেছিলাম। মনে আছে?
(সংগৃহীত) মোহাম্মদ সলিমুল্লাহ

