এম.আর.ওয়াজেদ চৌধুরী(রায়হান)
সমগ্র দেশ ব্যাপী চলছে ধরপাকড়, তল্লাশি, গ্রেফতার ।আপনার বন্ধু -বান্ধব, আত্মীয় - স্বজন ,পাড়া প্রতিবেশী এমনকি আপনি নিজেও যে কোন মূহুর্তে এই পরিস্থিতির স্বীকার হতে পারেন । যদি এরকমটা হয়েই যায় তাহলে একটু সতর্ক হউন । আতঙকিত না হয়ে স্থির থেকে পরিস্থিতি বুঝতে চেস্টা করুন । আর ঘটনা বুঝে সঠিক সিদ্ধান্ত তথা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিন। পরিস্থিতি যাই হোক না কেন মনোবল হারাবেন না । সব সময় আত্মবিশ্বাস ধরে রাখবেন। দেখবেন সমাধানটা হয়তোবা পেয়ে যাবেন নিজের বুদ্ধিতে। আপনার যেকোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার পাশাপাশি নিম্নোক্ত বিষয় খেয়াল রাখবেন ; ওয়ারেন্ট আছে কিনা তা জানতে বা দেখতে চাইতে পারেন । (গ্রেফতারি পরোয়ানা হল,কোন ব্যক্তিকে আদালতে উপস্থিত করারলক্ষে আদালত কর্তৃক জারীকৃত লিখিত আদেশ, যা প্রিসাইডিং অফিসার কর্তৃক বা ম্যাজিস্ট্রেট বেঞ্চের ক্ষেত্রে বেঞ্চের যেকোন সদস্য কর্তৃক সইকৃত এবং আদালতের সীলমোহরকৃত যে আদেশনামা ) কি কারনে গ্রেফতার ? সে সম্পর্কে জানতে চাইতে পারেন ; গ্রেফতারের সময় আপনার পূর্ণ পরিচয় সংশ্লিষ্ট পুলিশ অফিসার এর নিকট তুলে ধরুন এবং যদি সম্ভব হয় তবে এর সংক্ষিপ্ত কোন পরিচয়পত্র তুলে ধরুন; যত দ্রুত সম্ভব আপনার বন্ধুবান্ধব, আত্মীয়স্বজন বা আইনজীবীকে গ্রেফতার এর বিষয়টি জানানোর ব্যবস্থা করুন ; গ্রেফতার এর বিষয়টি উপরোক্ত ব্যাক্তিদেরকে জানাতে না পারলে আদালতে হাজির করার পর ম্যাজিস্ট্রেট এর সামনে সরাসরি বিষয়টি জানান ; গ্রেফতার এর পর হাজতে আটক রাখার সময় পুলিশ অফিসার আপনার মূল্যবান জিনিসপত্র যেমন-মোবাইল, টাকাপয়সা, কাগজপত্র ইত্যাদি যা থাকবে তার একটি তালিকা তৈরি করে জমা নিবে । শেষে একটি স্বাক্ষর নিবে। এসময় সতর্কতার সাথে তালিকাটি পরে সবকিছু সত্যতা নিশ্চিত হবার পর স্বাক্ষর করুন; গ্রেফতার হবার পর আপনি পুলিশ অফিসার এর আর কোন প্রশ্নের উত্তর দিতে বাধ্য না ( আদালতের অনুমতি নেওয়ার পর বাধ্য ) আপনি যদি কোন বিবৃতি দেন তবে তা সতর্কতার সাথে পাঠ করে আপনার বক্তব্য বা ভাষ্য সঠিক আছে নিশ্চিত হবার পর স্বাক্ষর করবেন; গ্রেফতার এর কোন পর্যায়ে অসুস্থ হলে আপনি আদালতের মাধ্যমে বা নিজ উদ্যোগে মেডিকেল চেকআপ করিয়ে এর রিপোর্ট সংগ্রহে রাখবেন এবং চিকিৎসা প্রদানকারী ডাক্তার এর নাম পরিচয় জেনে রাখবেন যা সাক্ষ্য পর্যায়ে আপনার কাজে লাগবে । চলুন এখন সংক্ষেপে জেনে নিই গ্রেফতার সম্পর্কিত কিছু গুরুত্বপূর্ন আইনের বিধান :- পুলিশ কোন ব্যাক্তিকে ওয়ারেন্ট বা ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারার অধীনে যুক্তিসঙ্গত সন্দেহে বা অন্য কোন কারনে গ্রেফতার করার অধিকার রাখে। কার্যবিধির ধারা ৮০ অনুসারে ওয়ারেন্ট এর অধীনে গ্রেফতার এর ক্ষেত্রে অভিযুক্ত ব্যক্তি ওয়ারেন্ট দেখতে চাইতে পারেন । গ্রেপতার সম্পর্কে সংবিধান ; বাংলাদেশ সংবিধানের ৩১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আইনানুযায়ী ব্যতীত এমন কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায় না, যাতে কোন ব্যক্তির জীবন, স্বাধীনতা, দেহ, সুনাম, বা সম্পত্তির হানি ঘটে। আবার ৩২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, আইনানুযায়ী ব্যতীত জীবন ওব্যক্তিস্বাধীনতা হতে কোন ব্যক্তিকে বঞ্চিত করা যায় না। সংবিধানের, ৩৩ (১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী গ্রেফতারকৃত কোন ব্যক্তিকে যথাসম্ভব শীঘ্র গ্রেফতারের কারণ জ্ঞাপন না করে প্রহরায় আটক রাখা যায় না এবং উক্ত ব্যক্তিকে তার মনোনীত মনোনীত আইনজীবীর সাথে পরামর্শের ও তার দ্বারা আত্মপক্ষ সমর্থনের অধিকার হতে বঞ্চিত করা যায় না। সংবিধানের ৩৩ (২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী গ্রেফতারকৃত ও প্রহরায় আটক প্রত্যেক ব্যক্তিকে গ্রেফতারের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নিকটতম ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট হাজির করতে হয় এবং ম্যাজিস্ট্রেটের আদেশ ব্যতীত তাকে তদতিরিক্ত কাল প্রহরায় আটক রাখা যায় না। ফৌজদারী কার্যবিধি ধারা ৭৫/১ ও ধারা ৭৫/২ অনুযায়ী, প্রতিটি গ্রেফতারী পরোয়ানা ততক্ষণ পর্যন্ত বলবৎ থাকবে যতক্ষণ পর্যন্তপ্রদানকারী আদালত কর্তৃক উক্ত পরোয়ানা বাতিল বা অকার্যকর করা না হয়।লেখক :- এম.আর.ওয়াজেদ চৌধুরী(রায়হান)
01824-100890
ছাত্র আইন বিভাগ, আই.আই.ইউ.সি।


