কলকাতা হাইকোর্টের প্রথম মুসলিম বিচারপতি ছিলেন স্যার সৈয়দ আমীর আলী।
তাঁর জন্ম ১৮৪৯ সালের ৬ এপ্রিল হুগলীর চুঁচুড়া শহরে। চুঁচুড়ার হেকিমি ঔষধ ব্যবসায়ী সৈয়দ সাদ আলী ছিলেন তাঁর পিতা। শিক্ষাজীবনে মেধার পরিচয় দেন এবং প্রতিটি পরীক্ষায় বৃত্তি লাভ করেন। হুগলী কলেজ থেকে ১৮৬৭ সালে বি.এ. ও ১৮৬৮ সালে ইতিহাস ও অর্থনীতিতে এম. এ. ডিগ্রি লাভ করেন। অতঃপর ল পাস করে কলকাতা হাইকোর্টে আইনব্যবসায় যোগদান করেন। সরকারি বৃত্তি পেয়ে লন্ডন গমন করেন এবং ১৮৭৩ সালে ইনার য়ে টেম্পল থেকে ব্যারিস্টারি ডিগ্রি লাভ করেন।
দেশে প্রত্যাবর্তনের পর পুনরায় কলকাতা - হাইকোর্টে আইনব্যবসায় যোগদান করেন। ১৮৭৪ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সদস্য নির্বাচিত এ হন এবং পরের বছর প্রেসিডেন্সি কলেজের আইন 5 অধ্যাপকের পদে নিযুক্তি লাভ করেন। তিনি এ পদে পাঁচ বছর অধিষ্ঠিত ছিলেন। ১৮৭৬ সালে সেন্ট্রাল মোহামেডান অ্যাসোসিয়েশন গঠন করেন। ১৮৭৮ সালে প্রেসিডেন্সি ম্যাজিস্ট্রেট কিছুকাল পর প্রধান প্রেসিডেন্সি ম্যাজিস্ট্রেট পদে উন্নীত হন। ১৮৮১ সালে চাকরি থেকে পদত্যাগ করে পুনরায় ব্যারিস্টারি পেশায় যোগদান করেন। অল্পকাল পর বঙ্গীয় ব্যবস্থাপকসভার সদস্য নির্বাচিত হন এবং ১৮৮৩ সাল পর্যন্ত এ পদে দায়িত্ব পালন করেন। মুসলমানদের স্বার্থরক্ষার জন্য বড়লাট লর্ড রিপন কর্তৃক ভারতীয় ব্যবস্থাপকসভার সদস্য নিযুক্ত হন। ১৮৮৪ সালে ঠাকুর আইন অধ্যাপকের পদ অলংকৃত করেন। ১৮৯০ সালে প্রথম মুসলিম হিসেবে কলকাতা হাইকোর্টেরবিচারপতি পদে নিযুক্তি লাভ করেন এবং ১৯০৪ সালে এ পদ থেকে অবসর গ্রহণ করেন।
অতঃপর সন্ত্রীক বিলেত গমন এবং লন্ডনে মুসলিম লীগের শাখা কমিটি গঠন করে আজীবন এ সমিতির সভাপতি পদে অধিষ্ঠিত থেকে ভারতীয় মুসলমানদের কল্যাণ সাধনার্থে আন্দোলন পরিচালনা করেন। ইলবার্ট বিল সঙ্কটকালে অস- াধারণ রাজনৈতিক প্রজ্ঞার পরিচয় প্রদর্শন করেন। ১৯০৯-এর ১৩ নভেম্বর প্রিভি কাউন্সিলের সদস্য নিযুক্ত হন। ভারতীয়দের মধ্যে তিনিই প্রথম এ পদ লাভ করেন।
ইসলামিক ইতিহাস ও সংস্কৃতি এবং আইন করেন। শাস্ত্রের গবেষণায় অগাধ পাণ্ডিত্যের পরিচয় প্রদান করেন। Spirit of Islam, History of the Sara - cens, Ethics of Islam ইত্যাদি তাঁর ইতিহসবিষয়ক গ্রন্থ। Mahomodan Law, The Per aonal Law of the Mahomedian Civil Proce dure in British India ইত্যাদি তাঁর আইন বিষয়ক গ্রহ। তিনি মুসলিম আইনে অসাধারণ নৃপতির অধিকারী ছিলেন। ১৯১১ সালে ভারতীয় ব্যবস্থাপকসভায় উপস্থাপিত ওয়াকফ বিদের মূল প্রণেতা ছিলেন সৈয়দ আমীর আলী। দক্ষিণ আফ্রিকায় মহাত্মা গান্ধীর সত্যাগ্রহ আন্দোলনের প্রতি সমর্থন আপন করেন। মর্নো-মিন্টো শাসন সংস্কারে ভারতীয় মুসলমানদের রাজনৈতিক দাবির প্রতি যে স্বতন্ত গুরুত্ব দেয়া হয়েছিল তার মূলে ছিল
স্যার সৈয়দ আমীর আলী (১৮৪৯-১৯২৯)
আমীর আলীর নিরলস সাধনা। নিজে উদার, অসাম্প্রদায়িক ও আধুনিক চিন্তা-চেতনায় বিশ্বাসী ছিলেন এবং সে আলোকে ভারতীয় মুসলমানদের মানস গঠনের জন্য লেখালেখি পরিচালনা ও বক্তৃতা-বিবৃতি প্রদান। “অন্ধ বিশ্বাস ইসলাম নহে, মুক্ত বিচার-বুদ্ধির সঙ্গে ইসলামের বিরোধ নেই” মতবাদ প্রচারের জন্য খ্যাত ছিলেন। অন্ধ অনুবর্তিতা ও ধর্মীয় গোঁড়ামি পরিহার করে আধু- নিক যুগের ভাবধারা ও ইংরেজি শিক্ষা গ্রহণের জন্য মুসলমানদের উপদেশ দান। ১৮৮৭ সালে ব্রিটিশ সরকার কর্তৃক সি.আ.ই. উপাধিতে ভূষিত হন। ৩ আগস্ট ১৯২৯ সালে লন্ডনে মৃত্যুবরণ
উৎস : সেলিনা হোসেন ও নূরুল ইসলাম সম্পাদিত, বাংলা একাডেমী চরিতাভিধান, বাংলা একাডেমি, পরিমার্জিত ও পরিবর্ধিত দ্বিতীয় সংস্করণ : ফেব্রুয়ারি ১৯৯৭, ঢাকা, পৃ.৪১৮°

