ফ্যাসিবাদী আমলে, ভিন্নমতের কোন ঠাঁই নেই। ভিন্নমতকে সহ্য না করে দমন করা হয়। এমনকি প্রায়ই দেশের বুদ্ধিজীবীদের সেন্সরের মুখে পড়া কিংবা মামলা, গ্রেপ্তার হওয়ার ঘটনা ঘটে।
ফ্যাসিবাদী আমলে, মানুষের মনে চারপাশে সন্ত্রাস, নৈরাজ্য, অত্যাচার, নির্যাতন, নিপীড়ন, মামলা, হামলা, হত্যা করা নিয়ে তেমন উচ্চবাচ্য থাকে না, বরং অনেক ক্ষেত্রে নিরবতা কিংবা সমর্থনই করতে তাদের দেখা যায়।
ফ্যাসিবাদী আমলে, পুলিশ কিংবা বিশেষ বাহিনী আইন প্রয়োগের ব্যাপারে নিরঙ্কুশ ক্ষমতা ভোগ করে। আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে অনিয়ম - দুর্নীতি ও অন্যায় নিয়ে উদাসীন থাকতে, এগুলোকে উপেক্ষা করতে মানুষকে দেখা যায়।
ফ্যাসিবাদী আমলে, নিয়ন্ত্রিত গণমাধ্যমকে ব্যবহার করে জনগনকে প্রকৃত তথ্য জানতে দেয় না। কোনো কোনো ক্ষেত্রে মিডিয়া সরাসরি রাষ্ট্রাধীন, অন্যান্য ক্ষেত্রে মিডিয়া পরোক্ষভাবে নানা সরকারি নিয়মকানুনের বেড়াজালে বন্দী কিংবা সরকারপন্থী ভাষ্যকার ও মুখপাত্রদের দখলে থাকে।
ফ্যাসিবাদী আমলে, দেশের সব সমস্যার জন্যে জনগণের কাছে একটা কমন শত্রু তথা বলির পাঁঠা উপস্থিত থাকে। দেশের কোথাও কোন সমস্যা হলে সেটা বিপক্ষীয়দের দোষ বলে প্রচার করা হয়।
ফ্যাসিবাদী আমলে, অবাধ স্বজনপ্রীতি এবং দুর্নীতিতে নিমজ্জিত হয়ে পড়ে শাসকগোষ্ঠী। ফ্যাসিবাদী সরকার প্রায় সবসময়েই এক পর্যায়ের একটা গোষ্ঠিশাসন, যেখানে একদল লোক আর তার বন্ধুরা মিলে অধিকাংশ সরকারি পদ, সুযোগ সুবিধা, ক্ষমতা ভোগ করে। সরকারি নেতাদের দ্বারা দেশের তহবিলের উপর বিশেষাধিকার ভোগ এমন কি লোপাট করার ঘটনা প্রায়ই ঘটে।
ফ্যাসিবাদী আমলে, অনেক সময় নির্বাচন হয় কেবল নামকাওয়াস্তে। অন্যান্য সময় নির্বাচনে ঘটে কারচুপি ও অবৈধ হস্তক্ষেপ, ঘটে বিপক্ষ দলের প্রার্থীদের হত্যর ঘটনা, ভোট গণনায় হস্তক্ষেপ, এবং নির্বাচনে মিডিয়ার অসৎ ব্যবহার।
আশা করি, দেশের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে ভাবতে উপরোক্ত তথ্য বিবেকবান মানুষের কাজে লাগবে।

